আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে সদ্য শেষ হয়েছে বিধানসভা ভোট। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে অশান্তির ঘটনায় শিরোনামে উঠে এসছিল কোচবিহারের শীতলকুচি। কারণ এই শীতলকুচিতেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর ছোড়া গুলিতে নিহত হন ৪ তৃণমূল কর্মী। যা নিয়ে ভোট চলাকালীনই গর্জে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি শীতলকুচির নিহতদের পরিবারের পাশে থেকে বার্তা দিয়েছিলেন ভোট মিটলেই এর তদন্ত করা হবে। আর ভোটে জিতে তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী পদে বসে মমতা ব্যানার্জি শীতলকুচি কাণ্ডের তদন্ত ভার তুলে দিয়েছেন সিআইডি গোয়েন্দাদের হাতে। আর তদন্তভার হাতে পেয়েই তৎপর হয়ে উঠেছে সিআইডির আধিকারিকরা। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য সিআইএসএফের ২ অফিসার সহ ৬ জওয়ানকে তলব করা হয়েছে ভবানীভবনে। আগামীকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার সকাল ১১ টার সময়ে তাদের হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। এই মর্মে সিআইএসএফের আইজিকেও চিঠি দিয়ে গোটা বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছেন সিআইডি আধিকারিকরা। আইজির তরফে সিআইডিকে জানানো হয়েছিল ভার্চুয়াল কনফারেন্সে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য। যেহেতু কোভিড পরিস্থিতিতে এখন কোথাও যাওয়াটা ঠিক নয়। কিন্তু এ বিষয়ে সিআইডি গোয়েন্দাদের তরফে বলা হয়েছে ভার্চুয়াল কনফারেন্সে নয় সশরীরে এসেই হাজিরা দিতে হবে। ইতিমধ্যেই আজ শীতলকুচিতে সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল তা জানতে ডেকে পাঠানো হয়েছিল মাথাভাঙা থানার আইসিকে। আজ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, শীতলকুচি কাণ্ডে তৃণমূল–বিজেপি নেতাদের মধ্যে রাজনৈতিক বাগবিতণ্ডা হয়। ভোট প্রচারে বেরিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ কথায় কথায় হুশিয়ারি দিতেন জায়গায় জায়গায় শীতলকুচি করে দেওয়া হবে। বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা, সায়ন্তন বসুরাও বলেছিলেন শীতলকুচিতে গুলি চালিয়ে ঠিক করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রয়োজনে এরকম গুলি বারবার চলবে। যা সাধারণ মানুষ ভালো চোখে নেননি। আর ভোটে বিজেপির ভরাডুবি হয়, বলেই মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তবে এত কিছুর মধ্যেও শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। হেরে গিয়েছেন কোচবিহারের জেলা তৃণমূল সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়।

জনপ্রিয়

Back To Top