আজকাল ওয়েবডেস্ক: নন্দীগ্রামের মাটিতে পা দিলেই শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে দেখানো হবে বিক্ষোভ, দাবি নন্দীগ্রামের তৃণমূল নেতা শেখ সুফিয়ানের। রীতিমতো গর্জে উঠলেন একদা জমি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত এই তৃণমূল নেতা। শুভেন্দু অধিকারী প্রসঙ্গে শেখ সুফিয়ান বলেন, ‘নন্দীগ্রামের মানুষ আর চান না শুভেন্দু অধিকারীকে। উনি চক্রান্ত করে ভোটে হারিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে। যা নন্দীগ্রামের মানুষ মেনে নিতে পারেনি। তাই এবার শুভেন্দু অধিকারী এলাকায় ঢুকলেই শুরু হবে বিক্ষোভ। আর এখানকার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন উনি। ধর্মীয় ভেদাভেদ তৈরি করতে চাইছেন নন্দীগ্রামের মানুষের মধ্যে। যা কেউ মানবে না। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে অপমান করেছেন উনি। তার জবাব এবার দেওয়া হবে।’ তৃণমূল নেতা শেখ সুফিয়ানের বক্তব্যের পাল্টা দিলেন বিজেপি নেতা প্রলয় পাল। প্রলয় পাল বলেন, ‘নন্দীগ্রামের নির্বাচিত বিধায়ক হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী যেদিন ইচ্ছা এলাকায় আসবেন। কেউ আটকাতে পারবে না। তৃণমূল যদি অন্যায়ভাবে বাধা সৃষ্টি করতে আসে সেক্ষেত্রে আমরা বিজেপির কর্মী–সমর্থকরাও রুখে দেওয়ার জন্য তৈরি আছি। এলাকার নির্বাচিত বিধায়ককে এলাকায় ঢুকতে বাধা দেওয়া মানে সংবিধানকে অমান্য করতে চাইছে তৃণমূল। নন্দীগ্রামে হেরে গিয়ে তৃণমূল বিজেপির কর্মীদের উপর হামলা চালাচ্ছে।’ রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যের বিধানসভাতেও এবার থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দ্বৈরথ দেখা যাবে। প্রসঙ্গত, রাজ্যে সদ্য শেষ হয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। আর একুশের বিধানসভা নির্বাচনে সবার নজর ছিল নন্দীগ্রামের উপর। নন্দীগ্রামে হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই মেগা লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয়লাভ করেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের সর্বত্র তৃণমূল প্রার্থীরা বিপুল ভোটে নির্বাচিত হলেও নন্দীগ্রামে হেরে যান মমতা ব্যানার্জি। যদিও মমতা ব্যানার্জি বারবার বলেছেন নন্দীগ্রামে তাঁকে চক্রান্ত করে হারানো হয়েছে। তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাজ্যের মসনদে বসেছেন মমতা ব্যানার্জি। আর বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হয়েছেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে হারিয়ে ইতিমধ্যেই বিজেপিতে শুভেন্দু অধিকারীকে জায়ান্ট কিলার আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয়

Back To Top