সুরজিৎ ঘোষ হাজরা: মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে তৃতীয়বার সরকারের আবারও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হলেন বোলপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিংহ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির অত্যন্ত আস্থাভাজন চন্দ্রনাথ সিংহ আজ রাজ্য মন্ত্রীসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসাবে শপথ বাক্য পাঠ করেন। ২০১১ সালে তৃণমূল সরকার গঠন থেকেই তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান পান। প্রথমে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নোয়ন মন্ত্রক, পরিসংখ্যান ও পরিকল্পনা দপ্তরের ও পরে মৎস্য মন্ত্রী হন। এবারের মন্ত্রিসভায় তিনি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প মন্ত্রক ও বস্ত্র (টেক্সটাইল) মন্ত্রকের দায়িত্ব পেয়েছেন। বিশ্বভারতীর এই প্রাক্তনী ছাত্রাবস্থা থেকেই দক্ষিনপন্থী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকেই তিনি দলে আছেন, যদিও মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয় ছাত্র পরিষদ করার সময় থেকেই। তাই মমতা ব্যানার্জির কাছে বীরভূম জেলাতে যে দুটো নাম একসঙ্গে উচ্চারিত হয় সেটি হল অনুব্রত মণ্ডল এবং চন্দ্রনাথ সিংহ, দলনেত্রীর মুখে ‘কেষ্ট আর চাঁদু’। প্রচারবিমুখ এই মানুষটি সাধারণত মঞ্চে, এমনকি দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জির সভাতেও একটু আড়ালে থাকতেই ভালোবাসেন। মঞ্চের পিছনে থাকতে আর প্রচার থেকে দূরে থাকা খাদ্য রসিক চন্দ্রনাথ সিংহ কিন্তু তার এলাকার মানুষের সব প্রয়োজনে সারাবছর মাঠে–ময়দানে থাকেন, যা তাঁর ঘোর বিরোধীরাও একবাক্যে স্বীকার করে নেন। ২০১১ সাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রী, অথচ লালবাতির গাড়ি আর দেহরক্ষীদের ঘেরাটোপে না থেকে আজও সাধারণ জীবন যাপনে অভ্যস্ত তিনি। সকলের সাথে সুসম্পর্ক রয়েছে তাঁর। নির্বাচনী প্রচার হোক বা চায়ের দোকানে আড্ডা সব জায়গাতেই খোলামেলা মানুষ চন্দ্রনাথ সিংহ তাই এবারও মন্ত্রিসভাতে স্থান পাবেন সেই বিষয়ে নিশ্চিত ছিল বীরভূম জেলার মানুষ। ২০১৯–র লোকসভা নির্বাচনে বোলপুর বিধানসভা আসন থেকে ১৫৪১২ভোটে এগিয়ে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এবার বিধানসভা নির্বাচনে সেই ভোটকে বাড়িয়ে ২২হাজারের বেশি ভোটে তিনি পরাজিত করেছেন বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী তথা দিল্লিতে শ্যামাপ্রসাদ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর ডক্টর অনির্বাণ গাঙ্গুলিকে। মন্ত্রী হবার পর aajkal.in–কে চন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, ‘আমরা দলের সৈনিক। দলনেত্রী যে দায়িত্ব দিয়েছেন সেটা পালন করবো। মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ মতো রাজ্যের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের রাজ্যের টেক্সটাইল বিভাগকে আরও উন্নত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আজ থেকেই কাজ শুরু করার পরিকল্পনা আছে। সেই সঙ্গে আমি এলাকার মানুষের আস্থা আর বিশ্বাস ভঙ্গ হতে দেব না।’ অন্যদিকে রামপুরহাটের বিধায়ক রাজ্যের প্রাক্তন কৃষি মন্ত্রী অধ্যাপক আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় এবার মন্ত্রীসভায় স্থান না পাওয়ায় কিছুটা বিস্মিত বীরভূম জেলার মানুষ। তিনিও ২০১১ ও ২০১৬ মন্ত্রী সভায় জায়গা করে নিয়েছিলেন। যদিও আজ তাঁকে বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার হিসাবে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

জনপ্রিয়

Back To Top