আজকালের প্রতিবেদন
আইপিএল কি তাহলে বিশবাঁও জলে চলে গেল?‌ সম্ভবত  তা নয়। মহামারী তৈরি করা করোনা ভাইরাসের কারণে পৃথিবীজুড়ে যে অস্থিরতা, অনিশ্চয়তার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে, তার ঢেউ ভারতেও আছড়ে পড়েছে। এর ফলে আইপিএল শুরু হওয়া নিয়ে তীব্র জটিলতা রয়েছে অবশ্যই। তবে তার মানে এই নয় যে, ২০২০ সালের আইপিএল–‌এর খেলা একেবারেই হবে না। সময় কমে গেলেও আইপিএল ঠিকই আয়োজন করা হবে। তবে কবে থেকে এই প্রতিযোগিতা শুরু হবে, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। 
শনিবার বৈঠকের পর বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ  গাঙ্গুলি আইপিএল শুরুর দিন নিয়ে কোনও দিশা দেখাতে পারেননি। তাঁর কথায়, ‘‌যদি আইপিএল হয়, তাহলে অবশ্যই সময় কমিয়ে আনা হবে। কারণ ১৫ এপ্রিল থেকেও যদি আইপিএল শুরু করা যায়, তাহলে ততদিনে নির্ধারিত সময়ের থেকে এমনিতেই ১৫ দিনের বেশি সময় চলে যাবে। সেক্ষেত্রে পরিবর্তিত পরিস্থিতিেত কতটা সংক্ষিপ্ত টুর্নামেন্ট হবে, কতগুলি ম্যাচ হবে, সেগুলো এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়।’‌ 
শুরু করার কোনও কাট–অফ সময় আছে কিনা তা জানতে চাওয়া হলে বোর্ড সভাপতির উত্তর, ‘‌এই মুহূর্তে সেটা বলা সম্ভব নয়। তবে এই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই, আমরা সবাই চাই আইপিএল হোক। কিন্তু মানুষের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবার আগে। আমরা সমস্ত ফ্র‌্যাঞ্চাইজিকে গোটা ব্যাপারটা জানিয়ে দিয়েছি। এখন কোথায় আমরা দাঁড়িয়ে এবং কীভাবে হতে পারে এই টুর্নামেন্ট, এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এটাই ঠিক হয়ে যে আইপিএল ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।’‌
এর মধ্যেই আবার বোর্ড জানিয়ে দিয়েছে, করোনার কারণে যাবতীয় ঘরোয়া টুর্নামেন্ট বন্ধ রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৮ মার্চ থেকে শুরু হতে চলা ইরানি কাপ, যা খেলার কথা রনজি চ্যাম্পিয়ন সৌরাষ্ট্র বনাম অবশিষ্ট ভারতের মধ্যে।
আইপিএল জট খোলার জন্য ৮ ফ্র‌্যাঞ্চাইজির মালিকদের সঙ্গে ভারতীয় বোর্ডের যে সভা ছিল শনিবার সকালে, তাতে খোলাখুলি আলোচনা হয়েছে। সমস্যার সমাধান পুরোপুরি হয়েছে, এ কথা বলা যাবে না। তবে বোর্ডের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব রাখা হয়েছে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের মালিক শাহরুখ খান, কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের কর্ণধার নেস ওয়াদিয়া, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অন্যতম ডিরেক্টর আকাশ আম্বানি–‌সহ অন্য মালিকদের নিয়ে সরাসরি কথা বলেছেন বোর্ড সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি ও সচিব জয় শাহ। প্রত্যেকেই সভার শেষে বলেছেন, নিরাপত্তার ব্যাপারটা অগ্রাধিকার পাবে সবচেয়ে বেশি। এ ব্যাপারে ফ্র‌্যাঞ্চাইজির মালিকরা মুনাফা করার কথা নাকি ভাবছেনই না। শাহরুখ টুইট করেছেন,‌ ‘‌দর্শকদের নিরাপত্তা, ক্রিকেটারদের বিষয়টা এবং যে শহরে খেলব সেগুলো মাথায় রাখতে হবে। স্বাস্থ্য সংস্থা এবং সরকারের নির্দেশ মেনে চলতে হবে। আশা করব যাতে ভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত বন্ধ হয় এবং আইপিএল শুরু হয়।’
বোর্ডের কাছ থেকে একগুচ্ছ প্রস্তাব পেয়ে ফ্র‌্যাঞ্চাইজির মালিকরা যে যার মতো নিজেদের গন্তব্যস্থানে ফিরে গিয়েছেন। দু’‌পক্ষের আলোচনার শেষে যেটা বোঝা গেছে তা হল, বোর্ড এবং এই মালিকরা পর্যবেক্ষণে রাখতে চাইছেন গোটা ব্যাপারটা। এদিন দুপুরেই আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠক ছিল। দীর্ঘ আলোচনা সেরে বেরিয়ে এসে বোর্ড সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি বলেন, ‘‌আমরা প্রতি সপ্তাহে পরিস্থিতির পর্যালোচনা করব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেই যাবতীয় কাজ করব।’‌ অর্থাৎ, যদি দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে খেলার নির্দেশ দেওয়া হয়, সেটাও মেনে চলা হবে। 
সমস্যাগুলো কী কী?‌
প্রথমত, শুরু করা হবে কবে?‌ যদি ১৫ এপ্রিল শুরু করা যায়, তাহলে কি সমস্যা দূর হয়ে যাবে?‌ একেবারেই তা নয়। কারণ ভারত সরকার জানিয়ে দিয়েছে, কোনও বিদেশি ক্রিকেটারকে ১৫ এপ্রিলের আগে ভিসা দেওয়া সম্ভব হবে না। কোনও ফ্র‌্যাঞ্চাইজি আবার বিদেশি ক্রিকেটারদের ছাড়া খেলতে নারাজ। সবার পরিকল্পনা ছিল, ২৯ মার্চের আগে লম্বা সময় ধরে কন্ডিশনিং ক্যাম্পে নিজেদের ক্রিকেটারদের রেখে দেওয়া। করোনার ভ্রুকুটিতে আপাতত সব শিবির বাতিল। এ কারণে যেসব ক্রিকেটার ইতিমধ্যেই ভারতে এসে পড়েছেন, তাঁদের হয় নিজের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, অথবা ফ্র‌্যাঞ্চাইজির খরচায় ওঁদের কেউ কেউ এখানকার নিরাপদ জায়গায় থেকে গেছেন।
একটা ব্যাপার অনেকটাই পরিষ্কার যে ২৪ মে–র পরে হয়তো এই টুর্নামেন্ট টেনে নিয়ে যাওয়া হবে না। সেক্ষেত্রে সময় কমায় দিন–পিছু ম্যাচের সংখ্যা বাড়ানো যেতেই পারে। এমনও হতে পারে, ১৯ এপ্রিল শুরু করে সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন যদি দিনে দুটো করে ম্যাচ আয়োজন করা যায়, তাহলে টেনেটুনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করে দেওয়া যায় কি না, সেটা নিয়ে অঙ্ককষা চলছে। অনিশ্চয়তা যেটুকু রয়েছে, তা ওই শুরু নিয়েই। বোর্ডের সিদ্ধান্তে ফ্র‌্যাঞ্চাইজি মালিকের মোটেই অখুশি নন।‌
এদিকে, বোর্ডের নির্দেশের পর সৌরাষ্ট্র খেলোয়াড়দের ইরানি কাপ খেলতে নামতে হচ্ছে না। ওই টুর্নামেন্টের পাশাপাশি ভিজ্জি ট্রফি, মহিলাদের ওয়ান ডে নক–আউট এবং ওয়ান ডে চ্যালেঞ্জার ট্রফি স্থগিত করা হয়েছে। জুনিয়র পর্যায়ের একাধিক টুর্নামেন্টও আপাতত স্থগিত।‌

জনপ্রিয়

Back To Top