শ্রাবণী গুপ্ত: তিনি চেষ্টা করেছিলেন ২০১১তেই। কিন্তু নানা কারণে হয়ে ওঠেনি। ২০২১ প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময়েই আরও একবার বিধান পরিষদ গঠনের কথা বলেছিলেন মমতা ব্যানার্জি। অমিত মিত্র, পূর্ণেন্দু বসুর মতো বেশ কয়েকজন দলের সিনিয়র নেতা এই নির্বাচনে টিকিট পাননি। কোনও ক্ষেত্রে কারণ শারীরিক অসুস্থতা, কেউ আবার দলের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তখনই তৃণমূল নেত্রী বলেছিলেন, জিতে সরকার গঠন করলে এবার বিধান পরিষদ গঠন করার দিকে এগোবেন তিনি। আমার ভোটে দাঁড়িয়েও ছেড়ে গেছেন বেশ কয়েকজন প্রাক্তন মন্ত্রী। যেমন গৌতম দেব, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ প্রমুখ। যদিও নন্দীগ্রাম থেকে তৃণমূল নেত্রী হেরে গেলেও সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী অন্য কোনও কেন্দ্র থেকে তাঁকে জিতে আসতেই হবে। কিন্তু বাকিদের জায়গা হতে পারে বিধান পরিষদে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, বিধান পরিষদ আসলে ঠিক কী? ভারতীয় সংবিধানের ১৬৯ নম্বর ধারা অনুসারে, কোনও রাজ্যে বিধানসভার পাশাপাশি বিধান পরিষদ গঠন করতে পারে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার। অনেকটা রাজ্যসভার মতো। তবে রাজ্যসভার সদস্যদের সংবিধান অনুসারে নির্দিষ্ট কিছু অধিকার দেওয়া আছে। বিধান পরিষদের ক্ষেত্রে তা থাকে না। যেমন কেন্দ্রীয় সরকার লোকসভায় কোন বিল পাস করালেও রাজ্যসভায় যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকে, সেই দিন আটকে যেতে পারে। এই মুহূর্তে দেশের ২৮ টি রাজ্যের মধ্যে ৬ টি রাজ্যে বিধান পরিষদ রয়েছে। এই রাজ্যগুলি হল উত্তরপ্রদেশ, বিহার, তেলেঙ্গানা, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্র। নিয়ম অনুযায়ী রাজ্য বিধানসভার মোট আসনের এক–তৃতীয়াংশ সদস্য সংখ্যা থাকতে পারে বিধান পরিষদে। তবে সর্বনিম্ন ৪০ জন সদস্য হতেই হবে। ইতিহাস বলছে, স্বাধীনতা উত্তর পর্বে পশ্চিমবঙ্গে বিধান পরিষদ ছিল। ১৯৬৯ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের আমলে তা ভেঙে দেওয়া হয়। পরে অবশ্য ৭২ থেকে ৭৭ এর কংগ্রেস আমলে অথবা ৭৭ থেকে ২০১১ পর্যন্ত বাম আমলে বিধান পরিষদ নিয়ে কোনও মুখ্যমন্ত্রী উদ্যোগী হন নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষক পলাশ গঙ্গোপাধ্যায় aajkaal.in কে এই প্রসঙ্গে বললেন, ‘বিধান পরিষদ তৈরি করা যেতেই পারে। অন্তত সংবিধানে সেই সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এর যেমন সুবিধা আছে তেমনি অসুবিধা আছে। বেশ কয়েকজন প্রাক্তন মন্ত্রী এবার ভোটে হেরে গেছেন। কিন্তু তাদের অভিজ্ঞতা বিধান পরিষদের মাধ্যমে কাজে লাগানো যাবে। অর্থাৎ একটা সরকারই সিস্টেমের মধ্যে তাদের নিয়ে আসা। তবে বিধান পরিষদ চালাতে সরকারি কোষাগার থেকে খরচও অনেক হবে। সদস্যদের ভাতা, মাসোহারা, অন্যান্য সরকারি সুবিধা দিতে প্রচুর টাকা খরচ করতে হবে। নতুন সরকার এই করোনা পরিস্থিতিতে সেই ব্যয়টা করতে পারবে কিনা তো ভাবার বিষয়।’ তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে খবর, ভোটে না দাঁড়ানো অমিত মিত্র, পূর্ণেন্দু বসু, ভোটে হেরে যাওয়া প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেব, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, কোচবিহারের ডাকাবুকো নেতা উদয়ন গুহ, দীর্ঘদিন রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের সঙ্গে যুক্ত থাকা জুন মালিয়া, আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে হেরে গেলেও দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাওয়া অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ সহ সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন কিন্তু শাসকদলের ভোট প্রচারে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন এমন বেশ কয়েকজন রাজ্যে বিধান পরিষদ গঠন হলে সেখানে থাকতে পারেন। তবে সংবিধান বলছে, এই বিধান পরিষদ গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন লাগে। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের আগে সেই অনুমতি মোদি সরকার দেবে কিনা এ নিয়ে কিন্তু সন্দিহান অনেকেই।

জনপ্রিয়

Back To Top