বিভাস ভট্টাচার্য: কেউ বেছে নিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়া, আবার কারও পছন্দ চায়ের আড্ডা। সন্ধে সাতটার পর ভোটারদের কাছে যেতে এই পথেই হাঁটা শুরু করেছেন বাকি তিন দফার প্রার্থীরা। কারণ, অতিমারির পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ, প্রচার চলবে সকাল ১০টা থেকে সন্ধে সাতটা পর্যন্ত এবং ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগে প্রচার শেষ হবে। 
এবছর বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে জোটের প্রার্থী সিপিএম নেতা চিকিৎসক ফুয়াদ হালিম। তিনি ঠিক করেছেন সাতটার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একই সঙ্গে ভোটের প্রয়োজনে জনসংযোগ যেমন চালাবেন তেমনি করোনা নিয়েও জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা তৈরির কাজ করবেন। ফুয়াদ বলেন, করোনা পরিস্থিতি খুব খারাপ এবং আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। ফলে আমার এখন কাজ এই রোগ এবং অন্যান্য অসুখ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতার প্রসার ঘটানো। অবশ্যই নির্বাচনের জন্য জনসংযোগও থাকবে। 
এলাকার প্রতিটি ভোটারকে প্রায় ব্যক্তিগতভাবেই চেনেন বীরভূমের হাঁসন কেন্দ্রের জোটের প্রার্থী কংগ্রেস নেতা মিলটন রশিদ। সন্ধে সাতটার পর কী করছেন? মিল্টনের উত্তর, এই এলাকার এমন কোনও বাড়ি নেই বা ভোটার নেই যা আমি চিনি না। একা বেরব আর সোজা ঢুকে পড়ব কারও বাড়ি। বলব, চা খেতে এলাম। শুরু করে দেব আড্ডা। কিছুক্ষণ গল্প করে ঢুকে পড়ব পাশের বাড়িতে। এভাবেই চলবে। 
সাতটার পর ফোন আর সোশ্যাল মিডিয়াই ভরসা পাণ্ডবেশ্বর কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী জিতেন্দ্র তিওয়ারির। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অমান্য করা যাবে না আবার জনসংযোগও চালাতে হবে। ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় সঙ্গে ভোটারদের সঙ্গে ফোনালাপ চালাবেন তিনি। ভোটের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে থাকার সুবাদে এলাকার নাড়িনক্ষত্র চেনেন। ফলে খুব ভালোমতোই জানেন কোন এলাকায় কে ভোটার। জিতেন্দ্রর কথায়, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ তো অমান্য করা যাবে না। তাই ফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জনসংযোগ করব। 
কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী আবার ফোন টোনে নয়। হাঁসনের কংগ্রেস প্রার্থীর মতো তিনিও এলাকার ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সন্ধের পর বৈঠকি আড্ডায় যোগ দেবেন। মালদার ইংলিশ বাজার কেন্দ্রের তৃণমূলের এই প্রার্থীর কথায়, সব্বাইকে চিনি। সাতটার পর সঙ্গে কাউকে রাখব না। সোজা দরজা ঠেলে ঢুকে বলব আড্ডা মারতে এলাম।
 

Back To Top