আজকাল ওয়েবডেস্ক: কোভিড–১৯ ধরাপড়ার পর জীবনের শেষ সময় বাড়িতে, পরিবারের পাশেই ফিরতে চেয়েছিলেন অশীতিপর বৃদ্ধ। কিন্তু বাড়িকে প্রায় হাসপাতালের ওয়ার্ডে পরিণত করে বাবাকে বাঁচিয়ে তুললেন ছেলে। অদ্ভূত এই ঘটনাটা ঘটেছে লন্ডনের এক প্রবাসী ভারতীয় পরিবারে।
সূর্যকান্ত ওরফে সুরি নাথওয়ানি নামে ৮১ বছরের প্রবাসী ওই বৃদ্ধের কোভিড–১৯ পজিটিভ ধরা পড়েছিল গত ২৫ মার্চ। তাঁকে লন্ডন লাগোয়া ওয়াটফোর্ড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন তাঁর ছেলে, ৫৫ বছরের রাজ নাথওয়ানি। কিন্তু ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিস বা সিওপিডি–তে আক্রান্ত সুরিকে ভেন্টিলেটরে রাখতে নারাজ ছিল হাসপাতাল। মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী জেনে বৃদ্ধ তাঁর ছেলে রাজকে অনুরোধ করেন তাঁকে বাড়িতেই ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। নিজে গত নভেম্বরে হৃদরোগে আক্রান্ত হন রাজ। বাড়িতে ৮০ বছরের বৃদ্ধা মা। ফলে অত্যন্ত ছোঁয়াচে এই রোগে আক্রান্ত বাবাকে বাড়িতে কীভাবে রাখবেন প্রথমে তানিয়ে কিছুটা চিন্তিত ছিলেন তিনি।
কিন্তু একটা বিজ্ঞাপন কোম্পানির ডিরেক্টর রাজ বিশ্বে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার প্রথম থেকেই এব্যাপারে প্রচুর পড়াশোনা করেছেন। সেই মতো ওয়াটফোর্ড হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে প্রথমে সারা বাড়ি স্যানিটাইজ করেন তিনি।

তারপর মা–কে একতলার ঘরে পাঠিয়ে দেন। আর বাবা–মায়ের দোতলার শোওয়ার ঘরকে প্রায় হাসপাতালের ওয়ার্ডে বদলে ফেলেন। থার্মোমিটার, রক্তচাপ পরীক্ষা যন্ত্র এবং নাড়ি পরীক্ষার যন্ত্র বা অক্সিমিটার দিয়ে বাবার শারীরিক অবস্থা দেখভালের জন্য গুগল্‌ স্প্রেডশিট তৈরি করেন। তারপর শিশুদের উপর লক্ষ্য রাখতে তৈরি বেবি মনিটর অ্যাপের সঙ্গে আইপ্যাড জোড়েন রাজ। তার ফলে পরিবারের সব সদস্য এমনকি আমেরিকায় রাজের ছোট ভাই মণীশের পরিবারও সূর্যকান্তের শারীরিক অবস্থা সর্বক্ষণ নজরে রাখতে পারতেন। সূর্যকান্তের শরীরে জলাভাবের দিকে লক্ষ্য রাখতে নিজেদের পারিবারিক চিকিৎসক ভরত ঠাকরের পরামর্শও নেন তাঁরা। এবং গুগল্‌ স্প্রেডশিট থেকেই সূর্যকান্তের শারীরিক পরিস্থিতি নজর রাখতে থাকেন ঠাকরে। তাছাড়া বাড়িতে আগে থেকেই কন্টিনিউয়াস পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেশার বা সিপিএপি মেশিন বসানো থাকায় বৃদ্ধের স্লিপ অ্যাপনিয়ার দিকেও লক্ষ্য রাখা সম্ভব হয়েছিল।
ঠাকরে জানালেন, নাথাওয়ানি পরিবারের ঠিকানায় একটা ডিএনআর নোটিস জারি হয়েছিল, যাতে সূর্যকান্তের অবস্থা খারাপ হলেই প্যারামেডিকরা গিয়ে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে পারেন। কিন্তু তার দরকার হয়নি। ক্রমেই সুস্থ হয়ে উঠে ৮১ বছরের বৃদ্ধ করোনামুক্ত হয়ে ফের পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিক সময় কাটাচ্ছেন।         

জনপ্রিয়

Back To Top