আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সারা দিনের মজুরি ৩০০ টাকা। সনাধর গোন্ড নামে সেই দিনমজুরকেই আয়কর বাবদ ২.‌৫৯ লক্ষ মেটাতে বলে নোটিস পাঠিয়েছে আয়কর দপ্তর। ওড়িশার নবরংপুর জেলার পুজারিভারান্ডি গ্রামের আদিবাসী সনাধর অন্য লোকের খেতে চাষের কাজের দিনমজুরি করেন। তিনি জানালেন, সাত বছর আগে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কাছে দিনমজুরের কাজ করতেন। সেসময়ই ওই ব্যবসায়ী তাঁর আধার কার্ড এবং অন্যান্য নথিপত্র নিয়েছিলেন। তাঁর নিজের কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই এবং তিনি সারা জীবনে এখনও পর্যন্ত কোনও ব্যাঙ্কে যাননি বলেও জানিয়েছেন সনাধর।
আয়করের ৪৪ ধারা অনুযায়ী পাঠানো ওই নোটিসে পাঠানো হয়েছে। নোটিসে বলা হয়েছে, ২০১৩–১৪ অর্থবর্ষে মরশুমি পণ্যের পাইকারি ব্যবসাদার সনাধর তাঁর করযুক্ত রোজগারের আয়কর জমা দেননি। এছাড়া ওই অর্থবর্ষেই তাঁর আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে নগদ ১.‌৪৭ কোটি টাকা জমা পড়েছিল আইসিআইসিআই–এর উমেরকোট শাখা থেকে দুটি চেকের মাধ্যমে। যার কোনও ব্যাখ্যা দেননি গ্রাহক। সেগুলির জরিমানা হিসেবেই ২.‌৫৯ লক্ষ টাকা দিতে বলা হয়েছে সনাধরকে। আগামী ১০ তারিখের মধ্যে হয় নিজেকে বা বৈধ প্রতিনিধির মাধ্যমে তাঁকে আয়কর দপ্তরে হাজিরা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নোটিসে। আয়কর দপ্তরের ১৯৬১ সালের আইনের ২৭১ (‌১)‌ (‌সি)‌ ধারায় তাঁকে একটি শোকজ নোটিস পাঠিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে কেন তাঁকে জরিমানা করা হবে না।
সনাধর বললেন, এর আগেও পাঁচবার ওই নোটিস পেলেও সেসবে গুরুত্ব দেননি। এবার ওই সব কটি নোটিস নিয়ে গ্রামের স্কুলশিক্ষকের কাছে গেলে তিনি পুরো বিষয়টি সনাধরকে বুঝিয়ে বলার পর সনাধর ঘটনার গুরুত্ব উপলব্ধি করেন। তারপরই তাঁর প্রাক্তন মনিবের কাছে গিয়েছিলেন এব্যাপারে প্রশ্ন করতে। কিন্তু মনিব দেখা করেননি। 
আয়কর দপ্তরের তরফে জেপোর সার্কলের অফিসার অশোক দাস বললেন, সব নিয়ম মেনেই বিভাগের যুগ্ম কমিশনারের অনুমতি নিয়ে ওই নোটিস পাঠানো হয়েছে। প্রমাণ হিসেবে তাঁদের কাছে সনাধরের নামের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং কেওয়াইসি ফর্ম আছে। রয়েছে ইংরেজিতে সনাধরের স্বাক্ষরিত জমা এবং টাকা তোলার স্লিপও। মোট টার্নওভারের জরিমানা হিসেবে তাঁরা আট শতাংশ ধরেছেন। প্রয়োজনে মোট টার্নওভারের লেভি হিসেবে আরও চার লক্ষ টাকা জরিমানা করতে পারে আয়কর দপ্তর। তবে এই ঝামেলা থেকে মুক্ত হতে হলে ভুবনেশ্বরে মুখ্য আয়কর কমিশনারের কাছে আপিল করতে পারেন সনাধর বলে জানিয়েছেন ওই অফিসার।
 

জনপ্রিয়

Back To Top