আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ লগারহড কাছিম শাবকের অকালমৃত্যুতে চোখ কপালে উঠেছে প্রাণীবিজ্ঞানীদের। গত সপ্তাহে আমেরিকার ফ্লোরিডা স্টেটের বোকা র‌্যাটন বন্দরে গুম্বো লিম্বো নেচার সেন্টারের কর্মীরা ভেসে আসা ওই কাছিমছানাটিকে উদ্ধার করেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি মারা যায়। ময়নাতদন্তের পর ছোট্ট প্রাণীটির পাকস্থলী থেকে বেরয় ১০৪টি প্লাস্টিকের টুকরো। সেগুলির মধ্যে যেমন রয়েছে বোতলের ছিপি, তেমনই আছে বেলুন, প্লাস্টিকের দড়ি বা প্যাকেটের টুকরো। ছানাটি এতই ছোট যে হাতের তালুর মধ্যে সেটি ধরে যায়। তার মৃত্যুর পর ছানার দেহ এবং প্লাস্টিকের টুকরো সহ ছবি গুম্বো লিম্বো নেচার সেন্টার কর্তৃপক্ষ ফেসবুকে আপলোড করেছে। তারপরই প্লাস্টিকের যথেচ্ছ ব্যবহার এবং যত্রতত্র সেই আবর্জনা ফেলার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে নেটিজেনরা। সেন্টারের কচ্ছপ এবং কাছিম পুনর্বাসন বিভাগের কর্মী এমিলি মিরোওস্কি বললেন, বহু ভেসে আসা সামুদ্রিক প্রাণীকে তাঁরা উদ্ধার করেছেন। কিন্তু চেষ্টা করলেও বেশিরভাগ সময়ই তাদের বাঁচানো যায় না। এবং ময়নাতদন্তের পর দেখা যায় প্রায় ১০০ শতাংশ প্রাণীর পাকস্থলীতেই জমে রয়েছে প্লাস্টিক। ওই কাছিমছানাটিও অত্যন্ত দুর্বল হয়ে গিয়েছিল। কারণ যেহেতু তার পাকস্থলী প্লাস্টিকের টুকরোয় ভরে গিয়েছিল সে ভেবেছিল তার পেট ভর্তি আছে। সেজন্য ছানাটি জল বা খাবার খায়নি। তার ফলেই দুর্বলতা এবং অপুষ্টি গ্রাস করে তাকে। সমুদ্রে প্লাস্টিক ফেলা বন্ধ করতে শুধু সরকারি বিধি বা নজরদারিই নয়, মানুষের সচেতনতাও জরুরি বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
ছবি:‌ প্রেসফোরাম     

জনপ্রিয়

Back To Top