আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতবর্ষের পুরুষতান্ত্রিক সমাজে স্বামীর মৃত্যুর পরে স্ত্রীকে‌ও একই চিতায় পুড়িয়ে মারা হত। এই ছিল প্রথা। সমাজের ভয় ছিল, নাহলে বিধবা স্ত্রী নাকি পতিতা হয়ে যাবেন। এরমধ্যে নেই কোনও প্রেম, আছে শুধু নৃশংসতা। কিন্তু হ্যারিয়েট ও জ্যাকের গল্পে ছিল প্রেম। তাঁদের সহমরণ তাঁদের প্রেমের তাগিদেই, স্বেচ্ছায়। আর তাই ঘটে গেল এরকম একটা ঘটনা। নতুন বছরের ১১ জানুয়ারি, একইদিনে হাসপাতালে এই দম্পতির মৃত্যু হল। ৮৩ বছরের হ্যারিয়েট ও ৮৬ বছরের জ্যাক। ১৯৫৫ সালের হ্যালোউইনে প্রথমবার তাঁরা ডেটে গিয়েছিলেন। তারপর থেকে ৬৫ বছর একে অপরকে ছেড়ে থাকেননি। তাঁদের ভাগ্নী ওয়্যাগনারের কাছ থেকে জানা গেল, এক বছর আগে হ্যারিয়েট তাঁদের কুকুরকে হাঁটাতে নিয়ে গিয়ে পড়ে যান। পিছনের হাড় অকেজো হয়ে যায় বলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া তাঁর ডিমেনশিয়া (‌ভুলে যাওয়ার রোগ) ছিল। এরপর কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর স্বামী পড়ে গিয়ে অসুস্থ হন। সেই হাসপাতালেই নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু এক ঘর পাওয়া যায়নি। তা বলে সেটা মেনে নেননি তাঁরা। ঘুমের সময়ে একে অপরকে ছেড়ে থাকতেন না। একজন হুইল চেয়ারে বসে সারারাত কাটাতেন, আরেকজন হাসপাতালের বেডে। হাত দু’‌টো সারারাত এক হয়ে থাকত। এক দু’‌দিন হ্যারিয়েট তাঁর স্বামীকে চিনতে পারতেন না। কিন্তু জ্যাক দূরে যাননি কখনও। ১০ জানুয়ারি, রাত ১১টা– যখন হ্যারিয়েট খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন একটি ঘরের সমস্ত আসবাবপত্র সরিয়ে দু’‌জনকে পাশাপাশি শোওয়ার ব্যবস্থা করে দিল হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ। একদিন বাদে দু’‌জনে হাতে হাত ধরে শেষ নিঃশ্বাস ছাড়লেন।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top