আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ দু’‌মাস ধরে টানা খনন কার্য চালিয়েছেন প্রত্নতত্ববিদরা। তারপরেই বেরিয়ে এসেছে ৫০০০ বছরের প্রাচীন মানুষের খুলি। মনে করা হচ্ছে এগুলি হরপ্পা সভ্যতা যুগের। প্রায় ২৫০টি কবরের সন্ধান পেয়েছেন তাঁরা। সেখানেই খনন কাজ চালিয়ে প্রায় ছ’‌ফুট দীর্ঘ মানুষের কঙ্কালেরও সন্ধান মিলেছে। যেটি প্রায় ৫০০০ বছরের প্রাচীন। 
এই প্রথম গুজরাটে প্রাচীন আমলের আয়তক্ষেত্রকার কোনও কবরস্থানের হদিশ মিলেছে। ৪,৬০০ থেকে ৫,২০০ বছরের প্রাচীন এই কবরস্থান বলে জানিয়েছেন প্রত্নতত্ববিদরা।

তাঁরাই জানিয়েছেন, এতদিন গুজরাটে যেসব প্রাচীন আমলের সমাধি বা কবরস্থানের হদিশ পাওয়া গিয়েছে সেগুলির আকৃতি হয় গোলাকার না হয় অর্ধগোলাকার। আয়তক্ষেত্রাকার কবরস্থান বা সমাধিক্ষেত্র এবারই প্রথম পাওয়া গেল। 
কচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ব বিভাগের প্রধান সুরেশ ভাণ্ডারি জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া খুলি এবং কঙ্কাল কেরল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখানেই গবেষণা করে বের করা হবে খুলিটি মহিলা না পুরুষের ও ঠিক কত বছরের পুরনো। কী কারণে মৃত্যু হয়েছিল সেই ব্যক্তির সেটিও গবেষণা করে বের করা হবে।

 
কচ্ছের লখপত তালুকের কাহাটিয়া গ্রামে পাওয়া গিয়েছে এই গণকবরস্থান। কেরল বিশ্ববিদ্যালয় এবং কচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় যৌথ উদ্যোগে এই খননকার্য চালিয়েছে। প্রত্নতত্ববিদরা জানিয়েছেন, পাথরের দেওয়াল গেঁথে প্রতিটি সমাধি দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় সমাধিটির ৬.‌৯ মিটারের আর সবচেয়ে ছোটটি ১.‌২ মিটারের। উদ্ধার হওয়া কঙ্কালগুলির মাথা বা খুলি ছিল পূর্ব দিক করে আর পা রাখা হয়েছিল পশ্চিম দিকে। অর্থাৎ পূর্ব–পশ্চিমে দেহগুলি শায়িত করা হয়েছিল। 
মানুষের কঙ্কাল ছাড়াও পশুর কঙ্কালও উদ্ধার হয়েছে সেখান থেকে।

এছাড়া শাঁখের চুড়ি, মশলা পেষাই করার পাথর, পাথরের পুঁথি, ধারালো পাথরও পাওয়া গিয়েছে সেখান থেকে। এই কবরস্থানের সন্ধান পাওয়ার পরেই প্রত্নতত্ববিদরা মনে করছেন গুজরাটের এই কাটিয়া গ্রামের কাছেই হরপ্পা সভ্যতার বসতি ছিল। যে মাটির বাসনগুলি পাওয়া গিয়েছে সেগুলি দেখে গবেষকরা জানিয়েছেন এই ধরনের মাটির পাত্র পাওয়া যায় পাকিস্তানের আমরি, নাল এবং কোটে। উত্তর গুজরাটের নাগওয়াড়া, চত্রাদ সহেলি, মোতি পিপালি এবং কচ্ছের ধনেটি, সপরকোডাতেও এই রকমের মাটির পাত্র পাওয়া যায়।  ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top