আজকাল ওয়েবডেস্ক: একদিকে কেরলে নৃশংসভাবে হত্যা হল এক হাতি। অন্যদিকে ঝাড়খণ্ডে তাণ্ডব চালানো হাতিকেই ওষুধ দিয়ে বাঁচিয়ে তোলার চেষ্টা। কেরলে যেভাবে সব্জিতে বোমা লুকিয়ে হত্যা করা হল গর্ভবতী হাতিটিকে, ঠিক সেভাবেই সব্জি দিয়ে সুশ্রুষা করা হল একটি আহত হাতিকে। কিন্তু আতসবাজির বদলে লুকিয়ে রাখা হল ওষুধ। কৌশলে প্রাণদানের চেষ্টা কয়েকজন গ্রামবাসীর।   
একই দেশের অন্য প্রান্তে, ঝাড়খণ্ডের গ্রাম রাহে, সিল্লি, আঙ্গাড়াতে দেখা গেল মানবিক চিত্র। গত এক মাস ধরে ক্রমাগত গ্রামে এসে তাণ্ডব চালায় একটি ১২ বছর বয়সি হাতি। ধ্বংস করে শস্য এবং ঘরবাড়ি। এমকি দু’‌জন গ্রামবাসীকে হত্যাও করে। ঘটনার সময়ে নিজে আহতও হয় সে। কিন্তু সব ভুলে লম্বা দাঁতাল বন্য জন্তুটিকে সুস্থ করায় লেগে পড়লেন গ্রামবাসী। হাঁটতে পারছিল না সে। বাঁ পায়ে চোট পেয়েছিল। আশ্রয় নিয়েছিল দু’‌গ্রামের মধ্যবর্তী ঢিবিতে। এক স্থানীয় বাসিন্দা সেখানে গিয়ে দেখতে পায় হাতিটিকে। খবর দেয় বন দপ্তরে। তাঁরা চিকিৎসক নিয়ে আসেন। হাতিটিকে সেবা করার দায়িত্ব নেন গ্রামের মানুষেরাই। তাঁরাই কুমড়ো বা লাউয়ের ভিতরে ওষুধ লুকিয়ে রাখেন। সব্জিগুলিকে রাখা হয় একটি জলাশয়ের পাশে। প্রতিদিন যখন হাতিটির জল পিপাসা পায়, সে ঢিবি থেকে নেমে আসে। জল খায়। আর পড়ে থাকা সব্জিগুলিও খেয়ে নেয়। গত চারদিন এটা দেখে বন দপ্তরের আধিকারিক আর কে সিং মনে করছিলেন যে হাতিটি এবারে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবে। কিন্তু তিনি জানালেন, দুঃখের বিষয়, বুধবার থেকে হাতিটি আর আসে না। কী হল তাঁর তা দেখতে যাওয়ার সাহসও কারওর নেই। কারণ ঢিবির ওখানে আরও দু’‌তিনটি বড় হাতি এসেছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। অন্য কোনও উপায় বের করার চেষ্টা করছেন গ্রামবাসী ও বন দপ্তরের লোকেরা। 

জনপ্রিয়

Back To Top