আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ‘‌মদের নেশা সর্বনাশা’‌। নেশার খপ্পরে পড়ে বহু পরিবার সর্বস্বান্ত হয়েছে। নানাভাবে অত্যাচারের শিকার হয়েছেন আসক্ত পরিবারের অভিভাবকেরা। ছেলেমেয়েদের হোমে রেখে চিকিৎসা করিয়েও মূলস্রোতে ফেরাতে পারেনি বহু পরিবার। এখন সেই পরিবারের অনেকের মুখে হাসি ফুটেছে। কারণ, তাঁরাই বলছেন মাদকের নেশা ছোটানোর রাস্তা খুলে দিয়েছে লকডাউন। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ছাড়া সমস্ত দোকানপাট বন্ধ। মাদক কারবারিদের দল যেভাবে তাদের নেশার কারবারের ফাঁদ পেতেছিল, সব ধুয়েমুছে সাফ। একদিকে পুলিশ ও প্রশাসনের কড়া নজরদারি, অন্যদিকে করোনা–আতঙ্কে লকডাউন পরিস্থিতিতে বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না কেউ। মদের নেশায় আসক্তরা এবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারবেন, এমনই মনে করছেন অনেক অভিভাবক।
উল্লেখ্য, লকডাউন পরিস্থিতিতে সমস্ত সরকারি মদের দোকান বন্ধ। ফলে অমিল এই উত্তেজক পানীয়। কোথাও কোথাও বেআইনি বিক্রির অভিযোগ আসছে পুলিশের কাছে। অভিযান চালিয়ে ধরপাকড় চলছে। যার ফলে নেশামুক্ত পরিবেশ। একপ্রকার বলা যেতে পারে অভিভাবকদের এখন পৌষমাস, আর নেশাখোরদের হয়েছে সর্বনাশ।
ছবিটা জেলা থেকে শহর—সর্বত্রই এক। লকডাউনের আগে অনেকেই মদ মজুত করে রেখেছিলেন। কিন্তু এখন ভাঁড়ারে টান পড়েছে। কালোবাজারিদের কাছেও স্টক শেষ। খাদ্যদ্রব্যের জন্য বাজারে যতটা না লাইন পড়ছে, একটু মদের আশায় বন্ধ দোকানের সামনে হাপিত্যেশ করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন মদপ্রেমীরা। তার উপর পুলিশের তাড়া তো আছেই। ফলে মাথায় হাত পড়েছে মাদকাসক্তদের। আর পোয়াবারো অভিভাবকদের। 
মালদা শহরের মালঞ্চপল্লী এলাকার এক দম্পতি ছেলেকে নিয়ে খুবই সমস্যায় পড়েছিলেন। ২০ বছর বয়সি একমাত্র ছেলে নেশায় আসক্ত ছিল। তাকে হোমেও রাখা হয়েছিল। কিন্তু নেশা ছাড়ানো যায়নি। কিন্তু লকডাউনে সমস্ত কিছু বন্ধ। বাড়ির বাইরে গেলে পুলিশের তাড়া। কাজেই ঘরবন্দি হয়ে থাকতে হচ্ছে মাদকাসক্ত ওই যুবককে। এটাই এখন পরিচিত ছবি জেলা থেকে শহর কলকাতাতেও। 

জনপ্রিয়

Back To Top