অম্লানজ্যোতি ঘোষ, আলিপুরদুয়ার, ৮ ডিসেম্বর- বক্সার পর্যটনে যুক্ত হল নতুন পালক। পর্যটকদের সামনে এবার থেকে ঐতিহাসিক বক্সা ফোর্ট পরিদর্শন, ভিউ পয়েন্ট দেখা, লেপচাখা ঘোরার পাশাপাশি থাকছে বিশেষ চমক। ভ্রমণের পাশাপাশি এবার বক্সা ফোর্টে এলেই তীরন্দাজির সুযোগ। মিলবে ‘‌ডার্ট’‌ ছোড়ার আনন্দ। পুরুষ–মহিলা পর্যটকরা ডুকপাদের নিজস্ব পোশাক পরে ছবি তোলার সুযোগ পাবেন। উল্লেখ্য, ট্রেকিং করে সান্তলাবাড়ি থেকে প্রায় ৫ কিমি হেঁটে প্রায় ২৭০০ ফুট উঁচুতে বক্সা ফোর্টে পৌঁছোতে হয়। বরাবরই অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটকদের কাছে ৫ কিমি রাস্তাটি বিশেষ আকর্ষণের। তবে ডুকপাদের দেশে গেলেও কার্যত ডুকপা লোকসংস্কৃতির ছোঁয়া বিশেষ একটা পেতেন না পর্যটকরা। যাঁরা হোম–স্টে তে থাকতেন তাঁরাও ফোর্ট, মিউজিয়াম, লেপচাখার মধ্যেই নিজেদের বেড়ানো সম্পূর্ণ করতেন। তবে এবার তীরন্দাজির সুযোগ থাকছে। 
উল্লেখ্য, বক্সা পাহাড়ের ১৪টি গ্রামে সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিপুরদুয়ার জেলার অন্যতম ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী ডুকপা সম্প্রদায়ের মানুষ। ডুকপা পরিবারে তীর–ধনুকের মর্যাদা বরাবরই অনেক উঁচুতে। স্থানীয় বাসিন্দা নিমা ডুকপার কথায়, ‘‌আমাদের বাড়িতে সোনা–দানা–মণিমুক্ত নাও থাকতে পারে। তবে তীর–ধনুক থাকবেই। পুজোতেও তীর–ধনুকের প্রয়োজন হয় আমাদের।’‌ উল্লেখ্য, তীরন্দাজিকে ডুকপা ভাষায় ‘‌জু’‌ বলা হয়। আর কাঠ, লোহায় তৈরি বিশেষ ধরনের ডার্টকে বলে ‘‌খুরু’‌। স্থানীয় লেপচাখা ফরেস্ট ভিলেজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক টেন্ডু ডুকপা বলেন, ‘‌বক্সার ১৪ গ্রামেই তীরন্দাজরা আছেন। এখানে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী তীরন্দাজি চলে। লোসার উৎসবের সময় সাতদিন গ্রামে গ্রামে প্রতিযোগিতা হয়। তীরন্দাজির জন্য পৃথক এক ধরনের পোশাক ব্যবহার করা হয়।’‌ এদিকে, রবিবারই প্রথম আলিপুরদুয়ার জেলাতে ডুয়ার্স আর্চারি ও ডার্ট ক্লাবের সূচনা হয়েছে বক্সাতে। দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে আয়োজকরা বক্সা ফোর্টের সামনের ময়দানে তীরন্দাজি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। ভুটান থেকেও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এসেছিলেন একদল তীরন্দাজ। জানা গেছে, এবার থেকে পর্যটকরা এসে বক্সা ফোর্টে কেদাং ডুকপার সঙ্গে যোগাযোগ করলেই তীরন্দাজির স্বাদ নিতে পারবেন। আলিপুরদুয়ার জেলা ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের কো–অর্ডিনেটর তমাল গোস্বামী, অন্যতম সদস্য সোহম চক্রবর্তীরা বলেন, ‘‌শুধু পর্যটনের জন্য নয়, একটি লোকসংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের উদ্দেশ্য। মানুষ যখন বক্সা থেকে ফিরে যাবেন তখন স্মৃতি হিসেবে সঙ্গে করে কিছু নিয়ে যাক। ডুকপা সংস্কৃতি কিছুটা অনুভব করুন পর্যটকরা। এটাই আমরা চাই।’‌ উল্লেখ্য, বিশেষ ধরনের বাঁশ থেকে বংশপরম্পরায় ধনুক তৈরি করে আসছেন ডুকপারা। ধনুকের ছিলা ‘‌পুঙ্কে’‌ নামের বিশেষ গাছের ছাল থেকে তৈরি হয়। গড়ে প্রতিবছর ২০–২৫ হাজার পর্যটক বক্সা ফোর্টে আসেন। তীরন্দাজির সুযোগ থাকলে ও ডুকপা সংস্কৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়ার ইচ্ছে থাকলে এই সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে।

বক্সা ফোর্টে তীরন্দাজি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ডুকপারা। ছবি:‌ প্রতিবেদক‌

জনপ্রিয়

Back To Top