অম্লানজ্যোতি ঘোষ, আলিপুরদুয়ার, ২৪ জুন- সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকলেও রেল তা নিয়ে মাথা ঘামাতে রাজি নয়। উল্টে আলিপুরদুয়ার জংশন থেকে শিলিগুড়ি জংশনের মাঝে ১৬৪ কিমি রেলপথে রেলগাড়ির গতিবেগ বাড়াতে চায় রেল। এমনকিঈ পরীক্ষামূলকভাবে উত্তর–পূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশন ইতিমধ্যে গাড়ির গতিবেগ ৩০ কিমির পরিবর্তে ৪০ কিমি প্রতি ঘণ্টা করেছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে সরব হয়েছে প্রকৃতিপ্রেমী সংগঠনগুলি। তবে রেল যে গতিবেগ বাড়ানোকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে তা আরও একবার টের পাওয়া গেল। 
রেল–বনদপ্তর সমন্বয় বৈঠকে এবার বনকর্তাদের সামনেই ট্রেনের গতিবেগ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে দিল রেল। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ফিল্ড ডিরেক্টর শুভঙ্কর সেনগুপ্ত বলেন, ‘রেল দুটি পয়েন্টে গাড়ির গতিবেগ দিনের বেলা ৩০ কিমি থেকে ৫০ কিমি করতে চেয়েছে। একটি দমনপুর থেকে রাজাভাতখাওয়া, অন্যটি সুকনা থেকে সেবক। রেলকে তাঁদের প্রস্তাব দিতে বলেছি। দুটি এলাকাই হাতির করিডোর হিসেবে স্পর্শকাতর। রেল প্রস্তাব দিলে তা এক্সপার্ট কমিটি বিবেচনা করে দেখবে। কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’‌ 
অন্যদিকে, ডিআরএম এস কে জৈন বলেন, ‘‌বৈঠক ফলপ্রসু হয়েছে। হাতি মৃত্যু রোখাটাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। এছাড়াও রেলগাড়িকে উপযুক্ত গতিতে চালাতে বেশকিছু ক্ষেত্রে স্পিড রিভিউ–এর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। রেল গাড়ি অল্প গতিবেগে চললে ‘‌ট্রেন লেট’‌ হওয়ার অভিযোগ থাকে।’‌ এদিকে, উত্তরবঙ্গের প্রকৃতি প্রেমিকদের একটি অংশ সোমবারই রেলকে সতর্ক করে দিয়েছেন। রেল সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিলেও অল্প গতিবেগেও গত ৩ বছরে ৪টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। হাতি মৃত্যু রুখতে এদিন পর্যন্ত স্থায়ী কোনও সমাধানের পথে রেল হাঁটেনি বলে অভিযোগ। শুধুমাত্র কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রকৃতি প্রেমিকদের একটি অংশের মতে, দমনপুর থেকে রাজাভাতখাওয়া, কেবল এই অংশে গত ১৯ বছরে ১৫টির বেশি হাতির মৃত্যু হয়েছে। সুকনা থেকে সেবক, তেমনই মারাত্মক স্পর্শকাতর হাতির করিডোর। ৫০ কিমি গতিবেগে দিনের আলোয় গাড়ি চললেও যে কোনও সময় রেলে ফের হাতি কাটা পড়তে পারে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ না মেনে রেলের গতিবেগ বাড়ানোকে মেনে নিতে পারেননি প্রকৃতি প্রেমিকদের একাংশ। ‌‌

ডুয়ার্সের বিভিন্ন জায়গায় এভাবেই রেললাইন পারাপার করে হাতির দল। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top