আজকালের প্রতিবেদন, আলিপুরদুয়ার, ২০ মে- আলিপুরদুয়ারে বেড়াতে আসা দেশ বিদেশের পর্যটকদের জন্যে সুখবর। দুর্গা পুজোর আগেই রাজ্যের জঙ্গল লাগোয়া ২০ টি বনবাংলো বনদপ্তরের হাত থেকে অধিগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন উন্নয়ন নিগম। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে আপাতত ২০ টি বাংলো চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলোগুলি বেহাল দশায় পড়েছিল। দীর্ঘদিন বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলেছিল। এবার অবশ্য বনবাংলোগুলিকে ঝাঁ চকচকে রূপ দেওয়াটাই অন্যতম লক্ষ্য। একেবারে অত্যাধুনিক সুবিধা যুক্ত করা হবে প্রতিটি বাংলোকে। আর সেজন্য নেওয়া হচ্ছে একগুচ্ছ পরিকল্পনা। 
যেহেতু নির্বাচন চলছে, তাই বাংলো নিয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারিস্তরে কোনও পদক্ষেপ হয়নি। নির্বাচন শেষ হলেই শুরু হবে সংস্কারের কাজ। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের রাজাভাতখাওয়ায় নিগমের একমাত্র পর্যটক আবাসটিকেও ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নিগমের ওই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন রাজ্য বন উন্নয়ন নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রবীন্দ্র পল সাইনি। নিগমের ওই নতুন পরিকল্পনার কথা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান উদয়ন গুহ। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, একবার একসঙ্গে ২০ টি বাংলোর দরজা পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হলে একদিকে যেমন পর্যটকদের বেড়ানোর মরসুমে থাকার সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে, তেমনি আকর্ষণীয় বাংলোগুলিতে থাকার জন্য দেশ বিদেশ থেকে আসবেন পর্যটকরা। উল্লেখ্য, বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের বেশ কিছু বনবাংলো তালিকায় রয়েছে। যার মধ্যে জয়ন্তী, রায়ডাক, হাতিপোতার বাংলোগুলি অন্যতম। বেশ কিছু বাংলো তৈরি হয়েছে ইংরেজ আমলে। তবে এখনও পর্যন্ত প্রতিটি বাংলো বনদপ্তরের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাধারণের থাকার কোনও অনুমতি ছিল না। বিশেষ অনুমতি নিতে হয় বাংলোগুলিতে রাত্রিযাপনের ক্ষেত্রে। একবার বন উন্নয়ন নিগম দায়িত্ব নিলে অবশ্য সবার জন্যই সুবিধা হবে। অনলাইন বুকিংয়ে মিলে যাবে ঘর। এদিকে স্বয়ং শাসিত সংস্থা হওয়ার দরুণ নিগমের আর্থিক পরিস্থিতিও যথেষ্ঠ সমৃদ্ধ। ফলে বেহাল ২০টি বনবাংলোকে পুজোর মরসুমের আগেই নতুন কলেবরে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরে পর্যটনের স্বার্থে নিগমের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটকদের দেখভাল ও আতিথেয়তার জন্যে সংশ্লিষ্ট বনবাংলো লাগোয়া এলাকার যৌথ বন পরিচালন কমিটি গুলিকেও সংযুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাতে একদিক থেকে বিকল্প আর্থিক লাভের মুখ দেখবেন প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দারা, ঠিক তেমনিভাবে লোকবলের অভাব মেটাতে ওই কাজে নিযুক্ত করা হবে এলাকার উৎসাহী যুবক যুবতীদের। বেড়াতে আসা পর্যটকদের সাচ্ছন্দের যাতে কোনওরকম ঘাটতি না হয়, তা মাথায় রেখে বনবাংলো লাগোয়া ইচ্ছুক যুবক যুবতীদের ‘‌হসপিটালিটি’‌ প্রশিক্ষণেরও পরিকল্পনা নিয়েছে নিগম। বন উন্নয়ন নিগমের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর রবীন্দ্র পল সাইনি জানিয়েছেন, ‘‌রাজ্যের বিভিন্ন বন লাগোয়া এলাকায় পর্যটকদের স্থান সঙ্কুলান নিয়ে সমস্যা দীর্ঘদিনের। পছন্দের জায়গায় থাকতে না পেরে বহু পর্যটক তাঁদের আক্ষেপের কথা জানিয়ে আসছিলেন বহুদিন ধরে। এবার আশা করছি সেই আক্ষেপের অবসান ঘটতে চলেছে। পুজোর মরসুমের আগেই আমরা বনদপ্তরের আওতায় থাকা ২০টি বনবাংলোকে নতুন রূপে সাজিয়ে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা নিয়েছি। ভোট পর্ব মিটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জোরকদমে কাজ শুরু করা হবে।’‌   ‌

আরও সেজে ওঠার অপেক্ষায় ‘বক্সা জাঙ্গল লজ’। ফাইল ছবি

জনপ্রিয়

Back To Top