অম্লানজ্যোতি ঘোষ, আলিপুরদুয়ার, ৩ সেপ্টেম্বর- দক্ষিণ খয়েরবাড়ি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্র। একসময়ের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রটির হতশ্রী অবস্থা দেখে বারে বারে গত কয়েকবছর পর্যটক থেকে পর্যটন ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়েছিলেন। তবে এবার দক্ষিণ খয়েরবাড়ি‌র আকর্ষণ বাড়াতে সক্রিয় রাজ্য। স্বয়ং বনমন্ত্রীর কথায়, রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বড় লেপার্ড সাফারি হবে বেঙ্গল সাফারিতে। বেঙ্গল সাফারির মতো সাজিয়ে তোলা হবে সাউথ খয়েরবাড়িকেও। রাজ্য সরকারের ভাবনা ও পরিকল্পনা ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে। 
সাউথ খয়েরবাড়ি নিয়ে এদিন বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন নতুন পরিকল্পনার কথাও জানালেন। উল্লেখ্য, বৃহৎ প্রাণীদের জন্য সাউথ খয়েরবাড়িতে এনক্লোজার থাকলেও, পাখিদের জন্য এবার প্রায় ৮টি এনক্লোজার তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন জানান, ‘‌লেপার্ড সাফারির ব্যাপারে আমরা সেন্ট্রাল জু অথরিটির কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে। তবে পাখিদের এনক্লোজার নিয়ে বিশেষ কোনও জটিলতা বা অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। প্রাথমিক পরিকল্পনা আমরা করে ফেলেছি। বেঙ্গল সাফারিতেও পাখিদের এনক্লোজার আছে। তবে সাউথ খয়েরবাড়িতে বিজ্ঞান ভিত্তিকভাবে আরও আকর্ষণীও পাখিদের এনক্লোজার করা যায় কিনা তাও আমরা খতিয়ে দেখছি।’‌
‌প্রাথমিকভাবে প্রায় দেড় কোটি টাকা খচর করে দুটি এনক্লোজার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। পরে ধাপে ধাপে সেটিকে বাড়িয়ে ৮টি এনক্লোজার করা হবে। ডুয়ার্স পাখিদের স্বর্গোদ্যান। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প, জলদাপাড়া, চিলাপাতা মিলিয়ে পাঁচশো‌র বেশি প্রজাতির পাখির দেখা মেলে। তবে পাখিদের পরিচিতি মানুষের কাছে কম। পর্যটকেদের আগ্রহ চিতাবাঘ, হাতি, গন্ডার, বাইসনের দিকে। বনমন্ত্রীর কথায়, ‘‌পাখিদের এনক্লোজার হলে তা যেমন পর্যটকদের ভাল লাগবে, তেমনই বিষয়টি ছাত্রদের কাছে শিক্ষনীয় হবে।’‌ 
স্টেট ওয়াইল্ড লাইফ বোর্ডের মেম্বার তথা উত্তরবঙ্গের বিশিষ্ট প্রকৃতিপ্রেমিক অনিমেশ বসু জানান, ‘‌দক্ষিণ খয়েরবাড়ি একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। এত বৃহৎ প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ডুয়ার্সে দ্বিতীয়টি নেই। অ্যাডভেঞ্চার পার্ক, ছাত্রদের কথা মনে রেখে সেখানে প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ, পর্যটকদের জন্য সাফারি সবকিছু করা যায়। যত দ্রুত সেখানে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে ততটাই দ্রুত ফের গুরুত্ব বাড়বে সাউথ খয়েরবাড়ির।’‌ 
পাখিপ্রেমিক শিবুন ভৌমিকের কথায়, ‘‌সব ধরণের পাখিদের এনক্লোজারে বন্দি করা যায় না। তবে যত বেশি প্রজাতির পাখি এনক্লোজারে থাকবে, মানুষের কাছে তাদের পরিচিতি ততই বাড়বে।’‌  রসিকবিল বা কুঞ্চনগরে পাখিদের এনক্লোজার ততটা উন্নত নয়, সামান্য কয়েকটি প্রজাতির পাখি মাত্র রয়েছে সেখানে। এমনই দাবি প্রকৃতিপ্রেমিকদের। শুধু উত্তরবঙ্গে প্রায় ১৫০ প্রজাতির স্থানীয় পাখির দেখা মেলে তরাই–‌ডুয়ার্সে। তাদের মধ্যে অনেক প্রজাতি ভিড় করতে পারে এই এনক্লোজারে।  

  ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয়

Back To Top