পবিত্র মোহান্ত, ‌বালুরঘাট, ১৩ আগস্ট- দাদন নিয়েও কাজ না করে ভিন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসায় পিটিয়ে খুন করা হল এক দিনমজুরকে। মৃতের নাম রবীয়া ভুঁইয়া (‌৪৫)‌। বাড়ি তপন ব্লকের আজমতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দাউদপুর গ্রামে। ঘটনায় অভিযুক্ত ভিনরাজ্যে শ্রমিক সরবরাহের কাজ করা এক দালাল। নাম, জাকিরুল মোল্লা। তার বাড়িতেই টানা তিন দিন আটকে রেখে শেকল দিয়ে বেঁধে অত্যাচার চালানো হয় ওই দিনমজুরের উপর। অমানুষিক অত্যাচার সহ্য না করতে পেরে রবীয়ার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেছেন তঁার স্ত্রী মালতী ভুঁইয়া। ঘটনার পর থেকে সপরিবার পালিয়ে রয়েছেন অভিযুক্ত জাকিরুল মোল্লা। জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার দেবাশিস নন্দী বলেন,‘‌ঘটনার খবর পেয়েই মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’‌ 
মাস তিনেক আগে ভিন রাজ্যে শ্রমিকের কাজ করতে যাবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দালাল তপনের সাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা  জাকিরুল মোল্লার কাছ থেকে হাজার কয়েক টাকা দাদন নেয় রবীয়া। রবীয়ার পরিবারের লোকেদের দাবি, সে সময় সেখানে হাল্কা কাজ করানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কাজে যোগ দিয়ে দেখা যায় ভারী মাল বহন করানো হচ্ছে। না পারলে অত্যাচার করা হচ্ছে। দিনের পর দিন অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে কয়েকদিন আগে বাড়িতে পালিয়ে আসেন রাবীয়া। গত শুক্রবার স্থানীয় হাটে গিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ, সেখান থেকেই জাকিরুল রবীয়াকে নিজের বাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এরপর পরিবারের লোকেরা অনেক খোঁজ করেও রবীয়ার সন্ধান পায়নি। জাকিরুল বাড়িতে লুকিয়ে রেখে রাবীয়ার উপরে পাশবিক অত্যাচার শুরু করে। বাড়ির এক কোণে পায়ে শিকল বেঁধে ফেলে রাখা হয় রাবীয়াকে। টানা ৩ দিন অভুক্ত অবস্থায় অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে জাকিরুলের বাড়িতেই মৃত্যু হয় রবীয়ার। 
এরপর রবিবার রাতেই অভিযুক্ত জাকিরুল রাবীয়ার দেহ বাড়ির বারান্দায় গামছায় ফাঁস লাগানো ও পায়ে শিকল বাধা অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এদিন সকালে স্থানীয় লোকজন রাবীয়ার ক্ষতবিক্ষত দেহ জাকিরুলের বাড়ির বারান্দায় পড়ে থাকতে দেখতে পায়। খবর পেয়েই তপন থানার পুলিস গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। স্থানীয় বাসিন্দা বিনয় ভুঁইমালি জানান, ‘‌ওই ব্যক্তিকে হাট থেকে তুলে এনে তিন দিন ধরে পাশবিক অত্যাচার চালিয়েছে জাকিরুল। বেধড়ক পেটানোর পাশাপাশি পায়ে ওই ব্যক্তিকে শেকল বেঁধে বাড়িতে আটকে রাখত সে।’‌ এলাকায় প্রভাব থাকায় জাকিরুলের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস দেখায়নি প্রতিবেশীরা। রবীয়া ভুঁইয়ার স্ত্রী কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন। এদিন তিনি জানান, তাঁর ছেলে দিল্লীতে কাজ করে। স্বামীকে টাকা দিয়ে বাইরে কাজ করতে নিয়ে গিয়েছিল জাকিরুল। কিন্তু সেখানে কাজের চাপ সহ্য করতে না পেরে পালিয়ে আসে। এরপরেই হাট থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে চরম নির্যাতন চালিয়ে খুন করা হয়েছে তাঁর স্বামীকে। এই ঘটনায় ওই অপরাধীর ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন তিনি।  

জাকিরুলের বাড়িতে ঝুলছে রবীয়ার দেহ। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top