পঙ্কজ সরকার‌, মালদা: গাজোলে গণবিবাহের আসরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির হাত ধরে তঁার সঙ্গে আদিবাসী নৃত্যে পা মিলিয়ে রীতিমতো সেলিব্রিটি হোপনময় হাঁসদা। হঠাৎ যে এমন ঘটনা ঘটবে তা কখনও ভাবেননি বাহান্ন বছরের হোপনময়। তাই নিজের জীবন সার্থক হল বলেই মনে করছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে মাদলের তালে তালে পা মেলানো নিয়ে এখনও যেন স্বপ্নের ঘোরে রয়েছেন। এলাকায় রাতারাতি সেলিব্রিটি হয়ে উঠেছেন হোপনময়। প্রতিবেশী থেকে অপরিচিতরাও গিয়ে ভিড় জমাচ্ছেন তাঁর কাছে। কৌতূহলী মানুষের নানা প্রশ্ন, ‘‌মুখ্যমন্ত্রীকে কী বললেন? কিংবা মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে কী বললেন?‌‌’
হোপনময় নিজের জন্য যদিও কিছু চাননি। চেয়েছেন শুধু ছেলের একটা চাকরি। তাঁর কথায়, ‘‌দিদি, অনেকের অনেক কিছু করেছেন। আমার ছেলেটার যদি শুধু একটা চাকরি করে দেন। যে কোনও চাকরি, পুলিশে হলেও চলবে।’‌ তাঁর কথা শুনে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?‌ হোপনময় বলেন, ‘‌মুখ্যমন্ত্রী বললেন, হবে হবে। সবার চাকরি হচ্ছে, তোমার ছেলেরও হবে। ধৈর্য ধরো।’‌ মুখ্যমন্ত্রীর মুখে চাকরির আশ্বাস পেয়ে আপ্লুত হোপনময়ের মুখে যেন হাসি থামছেই না। গাজোলের দেউতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের বানিয়াপাড়ায় বাড়ি তাঁর। গরিব পরিবার। স্বামী রাবণ মুর্মু পেশায় খেতমজুর। তিনিও মজুরের কাজ করেন। ২ ছেলে, ১ মেয়ে তাঁদের। বড় ছেলে সেভেন মুর্মু সদ্য কলেজের গণ্ডি পেরিয়েছেন। তাঁকে ঘিরেই স্বপ্ন হোপনময়ের, চিন্তাও বটে। 
এরই মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে কাছে পেয়ে গেলেন তিনি। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী গাজোল মাঠে এসেছিলেন গণবিবাহের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা করার জন্য আদিবাসী মহিলা নাচের দল হাজির ছিল। ওই নাচের দলে ছিলেন হোপনময়ও। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের দেখে নিজেই কাছে যান। উপহার পাওয়া শাড়িটি গায়ে জড়িয়ে হোপনময়ের হাত ধরে পা মেলাতে শুরু করে দেন। বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলে পা মেলানো। মুখ্যমন্ত্রীকে এত কাছে পেয়ে আপ্লুত হোপনময়ের উক্তি, ‘‌আমি ঈশ্বরকে ছুঁতে পেরেছি। আমার জীবন সার্থক।’‌‌

বৃহস্পতিবার মালদায় মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে নাচছেন হোপনময় হাঁসদা। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top