আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ গত দুই সপ্তাহের প্রবল বৃষ্টি এবং ভুটান পাহাড় থেকে নেমে আসা ডলোমাইট মিশ্রিত ঝোরার জলে ডুয়ার্সের চা বাগানগুলিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলার মাল, ধুপগুড়ি,মেটেলি এবং আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট ও কালচিনি, আলিপুরদুয়ার ব্লকের অধিকাংশ চা বাগানে ফ্যাক্টরি, মজুত তৈরি চা, চা গাছের জমি সহ পুরানো এবং নতুন চা গাছের চারা ধুয়ে মুছে গিয়েছে। এই নিয়েই চিন্তায় রয়েছেন উত্তরবঙ্গের চা বাগানের শ্রমিক মালিক সকলেই। আর সেই ডলোমাইট আক্রান্ত ২৫টি চা বাগানের অবস্থা দেখতেই এলাকা ঘুরে গেল ভারত ও ভুটানের যৌথ এক প্রতিনিধি দল। সম্প্রতি ভূটানের সামচি জেলায় যান এ দেশের পাঁচজন প্রতিনিধি। তাঁর পুরো বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। এরপর ভূটানের তরফেও একটি দলকে উত্তরবঙ্গের চা বাগানের আক্রান্ত এলাকা ঘুরে দেখার কথা বলা হয়। সেই বিষয়েই দেখা করতে উত্তরবঙ্গে আসে বিশেষ প্রতিনিধি দল। ভারতের হয়ে তৈরি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন টি বোর্ডের প্রধান এস সুন্দররাজন। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তাঁরা দ্রুত রিপোর্ট পেশ করবেন বলেও জানিয়েছেন।
জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে লাগাতার দুই সপ্তাহ ধরে একটানা স্থানীয় বৃষ্টি, সেইসাথে ভুটান থেকে নেমে আসা ডলোমাইট মিশ্রিত ঘোলা জল চা গাছের, জমির ব্যাপক ক্ষতি করেছে। বলা হয়েছে, ধূপগুড়ি ব্লকের বানাহাট চা বাগানে ১০০ হেক্টর চা গাছের জমি, তেলিপাড়া চা বাগানের মোট চা চাষের জমির ৪০% লক্ষ্মী পাড়ার ফ্যাক্টরি ও সাথে চাষের বড় জমি, চুনাভাটী চা বাগানের বড় অংশের চা জমি, কাঠালগুড়ির চা গাছ এবং মেটেলির বড়দিঘী চা বাগানের চায়ের জমি নেওড়া নদীর জলে প্রচুর হেক্টর নষ্ট হয়েছে। মাল ব্লকের লীস রিভার চা বাগানের ১ একর চায়ের জমি, দলমোড় ও সাতালীর প্রচুর চা গাছ নষ্ট হয়েছে|
ডিবিআইটির রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, আলিপুরদুয়ার জেলার আলিপুরদুয়ার ব্লকের তুরতুরি চা বাগানে ৪০ শতাংশ চা গাছ নষ্ট হয়েছে, কাদম্বিনী, রহিমবাদ চা বাগানের চা গাছ প্রচুর নষ্ট হয়েছে। পাটকাপাড়া চা বাগানের ১ লক্ষ কেজি তৈরির চা ফ্যাক্টরিতে জল ঢুকে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ১ কোটি টাকা। 
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, গত ১৭ এবং ১৮ মে ভূটানে জলোমাইটের খনন নিয়ে একটি বৈঠক করা হয়। সেই বৈঠকে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি, ভারত থেকে আগত যাওয়া প্রতিনিধিরা ভুটানের ডলোমাইট খননস্থল ঘুরে দেখেন। দেখার চেষ্টা করেন, সমস্যাগুলি। 

জনপ্রিয়

Back To Top