অম্লানজ্যোতি ঘোষ,আলিপুরদুয়ার: কার্যত উৎসবের আবহে খুলে গেল তুলসীপাড়া চা–‌বাগান। আলিপুরদুয়ারে ডানকানস গোষ্ঠীর আরও একটি অচল চা–‌বাগান ফের চালু হল। প্রায় ৪ বছরের টানাপোড়েনের অবসান। ১০ দিন আগে থেকেই বাগান খোলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। বরণ করে নেওয়া হল চা শ্রমিক সংগঠনের অন্যতম নেতা তথা জেলা পরিষদের বিদায়ী সভাধিপতি মোহন শর্মা, জেলাশাসক নিখিল নির্মল–‌সহ বিশিষ্ট জনদের। আদিবাসী ও নেপালি সম্প্রদায় তাঁদের মতো করেই সেজেগুজে এসে উপস্থিত। নাচে, গানে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দিনভর মাতল বাগান চত্ত্বর। চলল ঢালাও মিষ্টি বিলি। 
তুলসীপাড়া খুলে যাওয়ায় জেলায় আর মাত্র ৫ টি বন্ধ চা–‌বাগান পড়ে রইল। মোহন শর্মা জানান, আগষ্টের মধ্যে মধু ও বান্দাপানি ‌বাগান খুলতে চলেছে। খুলে যেতে পারে ডানকানসের অধীন আরও একটি বন্ধ বাগান ডিমডিমাও। রুগ্ন চা–‌বাগানকে নিজেদের দায়িত্বে নিয়ে তাকে সবল সুস্থ করে তুলতে এগিয়ে এসেছে ‘‌মেরিকো’‌ কোম্পানি।  
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৫ জুলাই থেকে কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল তুলসীপাড়া। ১১৪৮ জন শ্রমিক চরম সঙ্কটের মুখে পড়েন। এদিন বাগান খোলার সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত দুটি ক্যাস জিআরও পেলেন শ্রমিকরা। একইসঙ্গে মেরিকো কোম্পানির ঘোষণা, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সব চা–‌শ্রমিককে বকেয়া দুর্গাপুজোর বোনাসের ৬০ শতাংশ দিয়ে দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, চুক্তি মেনে মেরিকো চা–‌শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা–‌গণ্ডার ৪০ শতাংশ ধাপে ধাপে শোধ করা হবে। কালচিনি ব্লকের রুগ্ন ‘‌চিনচুলা’‌ বাগানকে মাত্র ২ বছরে নতুন রূপ দেয় মেরিকো। ঠিক তারপরই মাত্র ১ বছর আগে দুই বন্ধ বাগান হান্টাপাড়া ও গেরগাণ্ডার দায়িত্ব নেয় তারা। দুই বাগানই আপাতত দিব্যি চলছে। মেরিকোর অন্যতম কর্তা সুরজিৎ বক্সি জানান, ‘‌আমরা মনে করি চা–‌বাগান ও চা–‌শ্রমিকদের প্রতি ভালোবাসা, বিশ্বাস থাকলে যে কোনও রুগ্ন দুর্বল বাগানকে দাঁড় করানো যায়। চা–‌শ্রমিকের কোনও বকেয়া যেন না থাকে, উৎপাদন খরচ যেন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে, সেদিকে সবসময় লক্ষ রাখি আমরা। আগামী ২ বছরের মধ্যে তুলসীপাড়াকে লাভজনক বাগানে পরিণত করা হবে।’‌ জেলাশাসক নিখিল নির্মল বলেন, ‘বাগান পরিচালনায় ‌প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলেই নতুন কর্তৃপক্ষ তা পাবেন।’‌ এদিকে, দুর্গাপুজোর আগেই বাগানের ভেতর প্রায় ১ কোটি টাকা খরচ করে  রাস্তা সংস্কার করে দেবেন বলে ঘোষণা করেন মোহন শর্মা। 

জনপ্রিয়

Back To Top