অম্লানজ্যোতি ঘোষ,আলিপুরদুয়ার: চা–‌শিল্পে তিন দিনের ধর্মঘটে ক্ষতি কার?‌ এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে উত্তরের চা–‌বলয়ে। ন্যূনতম মজুরির দাবিতে জয়েন্ট ফোরামের ডাকে চা–‌শিল্পে তিনদিনের ধর্মঘট চলছে। তবে দুর্গাপুজোর ঠিক আগ দিয়ে ভরা চায়ের মরশুমে ৩ দিনের ধর্মঘটে ক্ষতির মুখে উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্প। 
চা–মালিকদের সংগঠন ও চা–বিশেষজ্ঞদের মতে, তিন দিনের ধর্মঘটে ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা দঁাড়াবে। যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে চলেছে। জুলাই মাসে উত্তরবঙ্গে জয়েন্ট ফোরামের ডাকে চা–বাগানগুলিতে একের পর এক গেট মিটিং করেছিলেন চা–শ্রমিকরা। এবার ধর্মঘট। জুলাই মাসেও যেমন ক্ষতি হয়েছিল, একইভাবে আগস্ট মাসে আরও বড় ক্ষতি। চা–বিশেষজ্ঞদের কথায়, যে বাগানগুলিতে ধর্মঘটের প্রভাব পড়েনি, তার বাইরে অন্তত ৫০ শতাংশ চা–‌বাগান রয়েছে। আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি–‌সহ তরাই ডুয়ার্সে তেমন বাগানের সংখ্যা ১০০ টির মতো। প্রতিটি বাগানে কয়েক লক্ষ কেজি চা–‌‌পাতার উৎপাদন কম হবে। যেহেতু ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকবে, খুব স্বাভাবিকভাবে চা–‌‌পাতা তৈরি হবে দেরিতে। প্লাকিং ৩ দিন বন্ধ থাকলে নতুন পাতাকে বিক্রয়যোগ্য চায়ের উপযোগী করে তুলতে অনেকটা সময় লাগবে। যার প্রভাব পড়বে বিপণনের ক্ষেত্রে। চায়ে‌র নিলাম করতে গেলেও সেখানে খুব স্বাভাবিকভাবে পুরনো চায়ে‌র দাম কম পাবেন মালিকরা। গত বছরের তুলনায় এবার তরাই–‌ডুয়ার্সে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা চলছে জুলাই থেকে। এক দফার বর্ষায় ক্ষতি হয়েছে চা–‌‌বাগানগুলির। এবার ধর্মঘট সেই ক্ষতিটা আরও অনেকটা বাড়িয়ে দিল। আগস্ট মাস শেষ হলেই দুর্গাপুজোর বোনাস দিতে হবে। সেক্ষেত্রেও ধর্মঘটের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গোটা উত্তরবঙ্গের চা–বলয়ে বন্ধ বাগান বাদ দিলেও দুর্বল  ও রুগ্ন বাগান রয়েছে ৫০ টির বেশি। ক্ষতির মুখে পড়বে তারাও। চা–মালিকদের অন্যতম সংগঠন ডিবিআইটিএ–‌র অন্যতম কর্তা সুমন্ত গুহঠাকুরতা বলেন, ‘‌বিশাল ক্ষতির মুখে পড়তে চলেছি আমরা। এমন ধর্মঘট কাম্য ছিল না। সরকার আলোচনা প্রক্রিয়া চালু রেখেছে। একটা সমাধন বেরিয়ে আসতই।’‌ মালিকদের সংগঠন আইটিপিএ–‌‌র অন্যতম কর্তা অমৃতাংশু চক্রবর্তী জানান, ‘‌যেভাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার আলোচনা করে সমাধানের পথে যাচ্ছিল সেখানে এমন ধর্মঘট কখনই বাঞ্ছিত নয়। চা–শিল্পের অপূরণীয় ক্ষতি হল।’‌ চা–‌বাগান তৃণমূল কংগ্রেস মজদুর ইউনিয়নের রাজ্য সভাপতি তথা তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি মোহন শর্মা বলেন, বিরোধীরা চা–শিল্পকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। পুরোপুরি অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। যারা আজ ন্যূনতম মজুরি বলে চেঁচাচ্ছে তাঁরা গত ৩৪ বছর ১–‌২ টাকা বেতন বাড়িয়েছিল চা–শ্রমিকদের। আমরাও ন্যূনতম মজুরির পক্ষে। সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে সরকার।’‌ সব মিলিয়ে পুজোর আগে এই ধর্মঘটের ডাকে ক্ষতির মুখে পড়তে চলেছে চা–‌ শিল্প ও তার শ্রমিকরাই। 

জনপ্রিয়

Back To Top