পার্থসারথি রায়, জলপাইগুড়ি: ‌এশিয়াডে সোনাজয়ী স্বপ্না বর্মনের পরিবারের সঙ্গে বিবাদ চান না তাঁর গ্রামের বাসিন্দারা। কালীপুজোর অনুষ্ঠানে ডিজে বাজানোকে কেন্দ্র করে স্বপ্নার দাদার বিরুদ্ধে এক গ্রামবাসীকে মারধরের অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ এখন অনেকটাই স্তিমিত। জখম ব্যক্তির চিকিৎসার সমস্ত খরচ দিচ্ছেন স্বপ্না বর্মনের দাদা অসিত বর্মন। জখম নিতাই বর্মন (‌‌৫০)‌ বর্তমানে অনেকটাই সুস্থ। 
সোমবার দুপুরে স্থানীয় কালীপুজোর মণ্ডপে গন্ডগোলের জেরে মারামারির ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন স্বপ্না বর্মনের দাদা। এই ঘটনাকে ঘিরে জলপাইগুড়ির কালিয়াগঞ্জ সংলগ্ন ঘোষপাড়া এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। গন্ডগোলের সময় নিতাই বর্মন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি গুরুতর জখম হন।‌ তাঁকে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্বপ্না বর্মনের দাদা অসিত বর্মন গন্ডগোলের সময় নিতাই বর্মনকে মারধর করেছেন। মাটিতে ফেলে তাঁকে লাথি মারা হয় বলেও অভিযোগ।  
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বপ্না বর্মনের বাড়ির পাশের কালীপুজোর মণ্ডপে ডিজে বাজানো নিয়েই দু’‌জনের মধ্যে প্রথম গন্ডগোল শুরু হয়। অসিত বর্মন বলেন, ‘‌পুজোমণ্ডপের মধ্যে হওয়া দু’‌জনের গন্ডগোল থামাতে এগিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ওই সময় প্রচুর লোক জমে গিয়েছিল সেখানে। নিতাই বর্মন নামে এক ব্যক্তি ধাক্কাধাক্কির সময় পড়ে গিয়েছিলেন। অথচ তাঁকে মারধর করার অভিযোগ তোলা হচ্ছে আমার বিরুদ্ধে।’‌ 
যদিও স্থানীয় বাসিন্দা প্রতিমা বর্মন জানিয়েছিলেন, অসিত বর্মন পুজোমণ্ডপে ডিজে মেশিন ও চেয়ার ভাঙচুর করেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। স্বপ্নার বাড়িতে ঢুকে প্রতিবাদ জানান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন স্থানীয় গ্রামপঞ্চায়েত প্রধান ‌প্রধান হেমব্রম‌। আসেন বারোপেটিয়া গ্রামপঞ্চায়েতের উপপ্রধান ও তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাস। তাঁর নেতৃত্বেই এলাকায় সালিশি সভা বসানো হয়। স্বপ্না বর্মনের বাড়িতে বিক্ষোভ ও উত্তেজনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে বিশাল পুলিশ বাহিনীও। যদিও সব পক্ষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, স্বপ্না বর্মন আমাদের গর্ব। তাঁর পরিবারের সঙ্গে আমরা কোনও বিবাদ চাই না। সাময়িক উত্তেজনা হয়েছিল, তা মিটেও গেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়ার জন্য স্বপ্না বর্মনের সঙ্গে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।‌
 

জনপ্রিয়

Back To Top