পার্থসারথি রায়, জলপাইগুড়ি: স্বপ্না বর্মনের মায়ের ছিনতাই হওয়া সোনার হার এখনও উদ্ধার হয়নি। ঘটনার পর থেকেই আতঙ্কিত স্বপ্নাদের গোটা পরিবার। ইতিমধ্যেই স্বপ্নাদের বাড়ির সামনে সশস্ত্র পুলিসকর্মীদের পাহারায় বসানো হয়েছে। শনিবার রাত থেকেই সিভিক ভলান্টিয়ার–‌সহ নিরাপত্তায় রয়েছেন মোট ৬ জন পুলিসকর্মী। রবিবারও দিনভর পুলিসি নিরাপত্তা ছিল। সন্ধের খবর, প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিস ৭ জনকে আটক করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে কারা ছিনতাই করেছে, এখনও সে বিষয়ে নিশ্চিত নন পুলিস আধিকারিকেরা। 
কালিয়াগঞ্জ বাজারে নাতির জন্য ওষুধ কিনতে গিয়েছিলেন এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী স্বপ্নার মা বাসনা বর্মন। তাঁর গলা থেকে একটি সোনার হার ছিনতাই করে পালায় দুই দুষ্কৃতী। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায় গোটা কালিয়াগঞ্জ এলাকায়। রাতের মধ্যেই সেই খবর ছড়িয়ে পড়ে জলপাইগুড়ি–‌সহ সারা রাজ্যে। ঘটনার নিন্দায় সরব হন সকলেই। স্বপ্নার বাবা পঞ্চানন বর্মন বলেন, ‘‌দিদি কল্পনা রায়কে সঙ্গে নিয়ে কালিয়াগঞ্জ বাজারে গিয়েছিল বাসনা। ওষুধ কিনে বাড়ি ফেরার সময় আচমকাই হামলার কবলে পড়ে তারা। দুই দুষ্কৃতী মোটরবাইকে এসে স্বপ্নার মায়ের গলা থেকে সোনার হারটি ছিনতাই করে নিয়ে পালিয়ে যায়।’‌ ঘটনার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন স্বপ্নার মা বাসনাদেবী। বাড়িতেই তাঁর চিকিৎসা হয়। মেয়ের দেওয়া সোনার হার ছিনতাই হয়ে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছেন। হারটি যাতে উদ্ধার হয়, সেই কামনা করে রবিবার বাড়ির কালী মন্দিরে ঘটা করে পুজো দেন । বাড়িতে নিয়ে আসা হয় জোড়া ঢাক। 
জেলা পুলিসের আধিকারিকরা যান তাঁদের বাড়িতে। আসেন পুলিস সুপার অমিতাভ মাইতি ও আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকারও। দুষ্কৃতীদের ধরার জন্য রাত  ভর তল্লাশি চালান তাঁরা। খতিয়ে দেখা হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায় লাগানো সিসি টিভির ফুটেজ। পুলিস জানতে পেরেছে, দুষ্কৃতীরা নাম্বারপ্লেটহীন একটি মোটরবাইক নিয়ে এসেছিল। ছিনতাইয়ের পরই রংধামালি এলাকার দিকে পালিয়ে যায়। সেই সূত্র ধরেই তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে জেলা পুলিস।

জনপ্রিয়

Back To Top