গিরিশ মজুমদার, শিলিগুড়ি, ২৪ জুন- শিলিগুড়ির এক কংগ্রেস নেতার বাড়ির কুয়ো থেকে কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য দানা বেঁধেছে। রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে ওই কংগ্রেস নেতার মা গত দু’‌বছর ধরে নিখোঁজ থাকায়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শিলিগুড়ির দেশবন্ধুপাড়ায় তুমুল চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশ ওই কুয়োতে ডুবুরি নামিয়ে খুলি, হাড়গোড়ের পাশাপাশি উদ্ধার করেছে একটি চশমার ফ্রেম ও ব্যাগ। উদ্ধার হওয়া ওই হাড় ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার পরই ওই কংগ্রেস নেতা তাঁর মা–‌কে খুন করা হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়ে এফআইআর করেছেন। এফআইআরে বলা হয়েছে তাঁরই এক প্রতিবেশী এই খুনের ঘটনায় যুক্ত থাকতে পারেন।
জানা গেছে, দেশবন্ধুপাড়ায় নিজস্ব জমিতেই বাড়ি করে রয়েছেন বিমলেশবাবু। এই জমিতে বাড়ি করা নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের বিবাদ। এই বাড়িতেই পরিবারের সঙ্গে থাকেন তিনি। কিন্তু ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে বিমলেশবাবুর মা শেফালিদেবী নিখোঁজ হয়ে যান। বহু খোঁজাখুজির পরও খোঁজ মেলেনি তঁার। তখনই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তিনি। প্রতিবেশী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাঁর সন্দেহের কথাও জানিয়েছিলেন। এদিকে, গত ১৩ জুন বিমলেশবাবুর পরিবারের সদস্যরা বাড়ির কুয়োয় কিছু একটা পড়ার আওয়াজ শুনতে পান। সন্দেহবশত এরপর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এদিনও ফের তদন্তে আসে পুলিশ। সকালে শিলিগুড়ি থানা থেকে পুলিশের একটি দল যায় ওই বাড়িতে। নিয়ে যাওয়া হয় ডুবুরি। প্রথমে পাম্প করে কুয়োর জল তুলে ফেলা হয়। এরপর বালতি করে কুয়োর ভিতর থেকে বালি মাটি তুলে ফেলা হয়। তারপরই বেরিয়ে আসে বালতি ভর্তি হাড়গোড়। মাথার খুলিও মেলে কুয়োয়। বালি মাটি ছেঁকে একটি চশমার ফ্রেম পাওয়া যায়। তাতেই সন্দেহ বাড়ে। এই ঘটনায় ফের বিমলেশবাবুর মায়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। তবে এই হাড়গোড় আদৌ তঁার মায়ের কিনা তা পরীক্ষা না করে বলা সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছে পুলিশ। 
সংবাদমাধ্যমকে বিমলেশবাবু বলেন, ‘‌বিল্ডিং বানানো নিয়ে প্রতিবেশী ত্রিবণ শিকদার ও তার পরিবারের সঙ্গে আমাদের ঝামেলা চলছিল। পুলিশকে আগেও তা বলা হয়েছে। তাই আমাকে নানাভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করে সে। গত ১৩ জুন সকালে কুয়োর কাছে দাড়িয়ে ছিল ত্রিবণ। তখনই কুয়োতে কিছু একটা ফেলা হয়। সেদিন বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও এখন সন্দেহ হচ্ছে।’ তবে এখনই তিনি হাড়গোড় নিয়ে কিছু বলতে চাননি। পুলিশের কাছে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিমলেশবাবু। শিলিগুড়ি পুলিশ জানিয়েছে, হাড়গুলো ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। তারপরই বোঝা যাবে সেটি কার।

উদ্ধার হওয়া কঙ্কাল। ছবি:‌ শৌভিক দাস‌‌‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top