গিরিশ মজুমদার, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউতে আগুনের পর সতর্ক শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ওই আগুন থেকে শিক্ষা নিয়ে ইতিমধ্যে জেলা হাসপাতালে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পূর্ত দপ্তর এবং ইলেকট্রিক্যাল বিভাগ কাজ শুরু করে দিয়েছে। সোমবার হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সদ্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউতে আগুনের ঘটনায় এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বাকি রোগীদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে একটি নার্সিংহোমে। এভাবে সরকারি হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নানা মহল থেকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সেদিনই তাই শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে মকড্রিল করা হয়। প্রতিটি ওয়ার্ডে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ঠিক রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হয়। এখানে যে সমস্ত পুরনো চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বিদ্যুতের মেশিনপত্র রয়েছে তা সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ৮ থেকে ১০ বছরের পুরনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মেশিন বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথমেই পাল্টানো হবে শিশু বিভাগ এবং অপারেশন থিয়েটারের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মেশিনগুলি। সাধারণত এই মেশিন থেকেই আগুন লাগার প্রবল আশঙ্কা থাকে। পুরনো এই মেশিন ঠিকমতো চলছে কিনা তা দেখতে ইতিমধ্যে চলে এসেছেন কর্মীরা। এখানে সিসিইউ এবং অপারেশন থিয়েটার মিলে মোট ৬টি ভেন্টিলেটার রয়েছে। হাসপাতালে সুপার ডা:‌ অমিতাভ মণ্ডল বলেন, ‘বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্থা কেমন তা আগে থেকেই দেখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে পুরনো মেশিন ঠিকমতো চলছে কিনা তা দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’‌ 
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। ওই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তার কাজ এখন শেষের পথে। প্রতিটি ওয়ার্ডেই চলে গেছে পাইপ সংযোগ। ১ লক্ষ লিটার জলধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ভূগর্ভস্থ জলাধার করা হয়েছে। হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান ডাঃ রুদ্রনাথ ভট্টাচার্য বলেন, ‘‌উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মতো এখানে কোনও দুর্ঘটনা ঘটুক তা চাই না। এনিয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি। আগুন মোকাবিলায় আমরা বেশ কিছু ব্যবস্থা নিয়েছি।’‌ 
এদিকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউতে গত শুক্রবার ভোররাতে আগুন লাগার পর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ইউনিটটি চালুর কাজ শুরু হয়েছে। সিসিইউ’‌তে ভর্তি থাকা ৯ জন রোগীকে হাসপাতাল থেকে নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়। রবিবার রাতভর সিসিইউ’‌র কাজ চলেছে। সোমবার কয়েকজন রোগীকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মঙ্গলবার কিংবা বুধবারের মধ্যে সমস্ত রোগীকে নার্সিংহোমে থেকে ফিরিয়ে আনা হবে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা:‌ প্রলয় আচার্য বলেন, ‘‌ওই রোগীদের মেডিক্যালে নিয়ে আসা হচ্ছে। শুধু এই রোগীদের জন্যই নয়, অন্য সমস্ত রোগীদের প্রয়োজনেই তড়িঘড়ি সিসিইউ’‌র কাজ চলছে।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top