অলক সরকার, শিলিগুড়ি, ১৭ জুন- শিলিগুড়ি পুরনিগমে বাম পুরবোর্ড সংখ্যালঘু। তা সত্ত্বেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাজেট পাশ করালো সোমবার। বিগত চার বছরের মধ্যে এবারেই প্রথম হেসে খেলে বাজেট পাশ করাতে পারল বামেরা। আর বাম পুরবোর্ডের মুখে এই হাসি এনে দিয়েছেন কংগ্রেসের ৪ কাউন্সিলর। কারণ তাঁরা এদিনের বাজেট আলোচনায় হাজিরই হননি। স্বাভাবিক কারণেই বাজেট পাশ করানোর জন্য যে মানসিক চাপ থাকে, তার কিছুই এদিন লক্ষ্য করা গেল না বামেদের মধ্যে।
অন্যদিকে বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থানও ছিল নড়বড়ে। দুই বিজেপি কাউন্সিলরের মধ্যে একজন বাজেটের বিরোধিতা করলেও আরেকজন মধ্যপন্থা অবস্থান করেছেন। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল একরকম অসহায়তার মধ্যে পড়ে যাওয়ায় ওয়াক আউটের পথ বেছে নেয়। এতে করে বামেদের বাজেট পাশ করানোর ক্ষেত্রে আর কোনও বাধাই ছিল না। 
শিলিগুড়ি পুরনিগমে বোর্ড গঠনের জন্য বামেদেরকে এক নির্দল কাউন্সিলরের সমর্থন প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। ৪৭ আসনের পুরনিগমে বামেদের দখলে এসেছিল মাত্র ২৩ আসন। কিন্তু বোর্ড গঠনের জন্য দরকার ছিল ২৪। এই সময় ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের নির্দল কাউন্সিলর অরবিন্দ ঘোষ বামেদের পাশে দাঁড়ানোয় বামবোর্ড গঠিত হয়। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই অরবিন্দ ঘোষ প্রয়াত হন। সেদিন থেকেই বামপুরবোর্ড সংখ্যালঘু হয়ে পড়ে। এরপর এক ফব কাউন্সির দুর্গা সিং তৃণমূলে যোগ দেন। ফলে বামেরা ২২ হয়ে যায়। ম্যাজিক ফিগারের থেকেও কম। কিন্তু তারপরেও সংখ্যাগত কারণেই তৃণমূল অনাস্থা আনতে পারেনি। কিন্তু বাজেটে বেগ দিতে পেরেছে। বারেবারে কংগ্রেসের সঙ্গে বৈঠক করতে হয়েছে সমর্থনের জন্য। কিন্তু এবারে তারও প্রয়োজন হয়নি। 
বাজেট আলোচনায় কংগ্রেসের কেউ না থাকায় বামপুরবোর্ড এতটাই শক্তি পেয়েছিল যে মেয়র পারিষদ মুন্সি নুরুল ইসলাম বিগত ৩টি বাজেটের পর এই প্রথমবার তৃণমূলকে সরাসরি আক্রমণ করার সাহসও করতে পেরেছেন। ফলে বিরোধী দলনেতা রঞ্জন সরকার ওয়াক আউটের সিদ্ধান্ত নেন। তৃণমূলের প্রতিবাদ অবশ্য বামেদের আশীর্বাদ হয়েই দেখা দেয়। চেয়ারম্যান দিলীপ সিং জানিয়ে দেন সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই ২০১৯-‌২০ অর্থবর্ষের বাজেট পাশ হল। তবে বাজেট পাশ করানোর ক্ষেত্রে কং-‌অনুপস্থিতির বিষয়টি বামেদের সুবিধা করেছে বলে বলা হলেও কংগ্রেসের পরিষদীয় দলনেতা সুজয় ঘটক জানান, ‘‌আমরা বামেদের বাজেটের পক্ষে নই। বিগত দিনে আমাদের দাবি বা সংশোধন মেনে নিয়েও তা পূরণ করা হয়নি। তাই সেই বাজেট সমর্থনের প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু বাজেট পাশ না হলে শহরের উন্নয়ন স্তব্ধ হয়ে যাবে। আমরা সচেতনভাবে সেটা করতে পারি না। মানুষের স্বার্থে, শহরের স্বার্থে আজ গরহাজির থেকে একদিকে যেমন পুরনিগম অচলাবস্থা থেকে রক্ষা করেছি, অন্যদিকে মেয়রকে বুঝিয়ে দিয়েছি তাঁকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি না।’‌ 
এদিকে, তৃণমূলের পরিষদীয় দলনেতা তথা বিরোধী দলনেতা রঞ্জন সরকার জানান, ‘‌এই বোর্ড নিজেদের ব্যর্থতার দায় অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চাইছে। এটা কোনওমতে মানা যায় না। আমরা মানুষকে নিয়ে এই বোর্ডে বিরোধিতা করব।’‌ মেয়র অশোক ভট্টাচার্য জানান,‘‌আমরা সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত। তাই সীমিত বরাদ্দের মধ্যে অসীমিত চাহিদা পূরণ করতে হচ্ছে। সেকারণেই মৌলিক পরিকাঠামো ও পরিষেবায় জোর দিয়ে এবারের বাজেট তৈরি করা হয়েছে। এই বাজেট গরীব মানুষের জন্য এবং ভবিষ্যতের শিলিগুড়ির জন্য আশাব্যঞ্জক।’‌ 

ওয়াক আউট করে বেরিয়ে যাচ্ছেন তৃণমূল কাউন্সিলররা। বাজেট আলোচনা ঘিরে উত্তাল পুরনিগম। ছবি:‌ শৌভিক দাস

জনপ্রিয়

Back To Top