গিরিশ মজুমদার,শিলিগুড়ি: জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনের জেরে বৃহস্পতিবার দফায় দফায় উত্তেজনা দেখা গেল উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এদিন সকাল থেকে বহির্বিভাগে রোগীদের ভিড় বাড়তে থাকে। কিন্তু বহির্বিভাগ খোলা না পাওয়ায় রোগীর পরিজনরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। শামিল হন স্থানীয় কিছু বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী। দফায় দফায় সুপারের ঘরের সামনে বিক্ষোভ চলতে থাকে। পুলিশের সঙ্গেও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সুপারের কিছুক্ষণ আলোচনাও হয়। তাতেও সমাধানের পথ না পেয়ে রাস্তা অবরোধ করেন তাঁরা। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেয়। শেষে চাপে পড়ে অস্থায়ীভাবে খোলা হয় বহির্বিভাগ।
 টিকিট কাউন্টারের বাইরে গাছতলায় চেয়ার–‌টেবিল পেতে রোগী দেখতে শুরু করেন কিছু সিনিয়র চিকিৎসক। বেলা দেড়টা পর্যন্ত সেখানে পরিষেবা দেওয়া হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। জানা গেছে, শুক্রবারও বাইরে শিবির করে বহির্বিভাগের পরিষেবা দেওয়া হবে। জরুরি বিভাগেও মিলবে পরিষেবা। কিন্তু তাতে শামিল হবেন না জুনিয়র ডাক্তার, ইন্টার্ন, হাউস স্টাফ, পিজিটি–‌রা। তাঁরা আন্দোলনে অনড়। ফলে পরিষেবা ভেঙে পড়ারই আশঙ্কা করছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জুনিয়র ডাক্তাররা এদিন জরুরি বিভাগের সামনে অবস্থান চালিয়ে যাওয়ায় পরিষেবা ব্যাহত হয় সেখানেও। দূর‌দূরান্ত থেকে আসা রোগী, এমনকী রেফার করে দেওয়া রোগীদেরও অনেক ক্ষেত্রেই ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। জরুরি বিভাগের বাইরে টেবিল পেতে চিকিৎসকদের একটি টিম ছিল। হাসপাতাল সুপার ডা.‌‌ কৌশিক সমাজদার সঙ্কটাপন্ন রোগীদের ভর্তির ব্যবস্থা করেছেন। দুপুরের পরে চিত্র অবশ্য পাল্টাতে থাকে। কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী আন্দোলন নিয়ে কড়া বার্তা দিতেই জুনিয়র ডাক্তাররা সাময়িকভাবে অবস্থান বিক্ষোভ থেকে সরে আসেন। এরপর তাঁরা জমায়েত হন মেডিক্যালের বড় হলঘরে। সেখানে বৈঠকের পর পরবর্তী আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেন। বৈঠকে সিনিয়র ডাক্তাররাও ছিলেন। জুনিয়র ডাক্তারদের হয়ে সৌম্যদীপ রায়, সাগ্নিক মুখার্জিরা জানান, নিরাপত্তা না পেলে আন্দোলন থেকে সরবেন না তাঁরা। শুক্রবারও একইভাবে দাবি আদায়ে আন্দোলন চলবে। জুনিয়র ডাক্তাররা হুঁশিয়ারি দেন, প্রয়োজনে তাঁরা হস্টেল ছেড়ে পথে নেমে আন্দোলন করবেন। এদিকে, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এই তিন দিনের আন্দোলন চলাকালীন মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৩৯ জন রোগীর। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, এগুলি স্বাভাবিক মৃত্যু। গরমে এমনিতেই প্রতিবছর মৃত্যুর হার বাড়ে। হাসপাতাল সুপার ডা.‌‌ কৌশিক সমাজদার বলেন, ‘‌শুক্রবার জরুরি বিভাগ খোলা থাকবে। বহির্বিভাগ খুললেও রোগী দেখা নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে। জুনিয়র ডাক্তাররা এখানে বড় শক্তি। তাঁরা না থাকলে পরিষেবা দেওয়া কঠিন। আশা করব, স্বাস্থ্য দপ্তর কোনও ব্যবস্থা নেবে।’‌

 

শিবির করে জরুরি বিভাগে চলছে চিকিৎসা। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে। ছবি:‌ শৌভিক দাস
 

জনপ্রিয়

Back To Top