সুপ্রতিম মজুমদার, উলুবেড়িয়া: ১২ বছর বয়সে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসা আমতার কাস্টসাংরা গ্রামের সেই ‘‌বিস্ময় বালিকা’‌ সইফা খাতুন পেল ৪০৫ নম্বর। প্রায় ৫৭ শতাংশ। মেয়ের প্রাপ্ত নম্বর মন থেকে মেনে নিতে পারছেন না বাবা শেখ মহম্মদ আইনুল ও মা সাহানারা বেগম। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের বিশেষ অনুমতি নিয়ে এবার মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার অনুমতি পায় সইফা। সইফার বাড়ির সকলের আশা ছিল, সে মেধা–তালিকায় এক থেকে তিনের মধ্যে থাকবে। কিন্তু মঙ্গলবার পর্ষদ সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় মাধ্যমিক পরীক্ষার মেধা–তালিকা ঘোষণার পরেই বিমর্ষ হয়ে পড়ে এই পরিবারটি। 
পেশায় গ্রামীণ চিকিৎসক শেখ মোহম্মদ আইনুল তাঁর মেয়ের প্রতিটি খাতা স্ক্রুটিনি করার কথা ভাবছেন। সইফা প্রতিটি বিষয়ে ১০০–র মধ্যে ১০০ পাবে বলে দাবি করে আইনুল জানান, শৈশব থেকেই উঁচু ক্লাসের সমস্ত পাঠক্রম সইফার কণ্ঠস্থ ছিল। এক বছর তিন মাস বয়সে সইফা পড়াশোনা শুরু করে। সে কোনও দিন কোনও স্কুলের চৌহদ্দিই মাড়ায়নি। বাড়িতে পড়ে মাত্র ৬ বছর বয়সে সইফা মাধ্যমিকের সিলেবাস মুখস্থ করে ফেলে। উঁচু ক্লাসের পড়া মুখস্থ থাকার জন্য সে নীচু ক্লাসে ভর্তি হতে চায়নি। পর্ষদের বিশেষ অনুমতিক্রমে হাওড়ার সালকিয়ার অ্যাংলো সংস্কৃত হাই স্কুলের বহিরাগত পরীক্ষার্থী হিসেবে সইফাকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, মাধ্যমিকের টেস্ট পরীক্ষায় সইফা ৫৩ শতাংশ নম্বর পেয়েছিল। বাবা আইনুল ও তাঁর মেয়ে পরীক্ষার সব খাতা স্ক্রুটিনি করবেন বলে জানান। সইফা জানায়, সে যে নম্বর পেয়েছে সেটা তার নম্বর নয়। পর্ষদ সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় জানান, পরীক্ষার্থী খাতা স্ক্রুটিনি করার দাবি জানাতেই পারেন।                        

ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top