অভিজিৎ চৌধুরি, মালদা, ৩০ জুলাই- বর্ষার মরশুম শুরু হতেই মালদার বিভিন্ন নদীতে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নৌকো পারাপারের অভিযোগ উঠেছে।  আকৃতিতে ছোট হলেও বিভিন্ন নৌকোয় তুলে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত যাত্রী। এমনকী মোটরবাইক থেকে শুরু করে সাইকেল ও মোটর ভ‍্যানও তোলা হচ্ছে নৌকোয়। টালমাটাল অবস্থায় এপার থেকে ওপারে ভরা নদীর উপর দিয়ে চলাচল করছে এই নৌকোগুলি। এব্যাপারে প্রশাসনের কোনও নজর নেই বলেও অভিযোগ উঠেছে।
যদিও অতিরিক্ত জেলাশাসক পদম সুমন জানিয়েছেন, যে সব ঘাটে নৌকো পারাপার করা হয়, সেগুলোতে নজর রাখার জন্য  বিভিন্ন ব্লকের বিডিওদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মালদা শহরের পূর্ব প্রান্ত দিয়ে বয়ে গেছে মহানন্দা নদী। এছাড়াও জেলার ইংরেজবাজার ব্লকে রয়েছে মহানন্দা, ভাগিরথী নদী। পুরাতন মালদা ও হবিবপুর ব্লকে রয়েছে বেহুলা, টাউন, কালিন্দী, পুনর্ভবা নদী। কালিয়াচক, মানিকচক, রতুয়া হরিশ্চন্দ্রপুর ব্লকে রয়েছে গঙ্গা ও ভাগিরথী নদী। চাঁচলে রয়েছে মরা মহানন্দা নদী। বর্ষার মরশুম আসতেই প্রতিবছর বিভিন্ন নদীগুলি বিশাল চেহারা নেয়। এই সময় রীতিমতো ঝুঁকি নিয়ে নৌকো পারাপার করছেন যাত্রীরা। 
যদিও  ইংরেজবাজার পুরসভার অন্তর্গত মহানন্দা নদীতে যেন প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত যাত্রী না নেওয়া হয়, সেদিকেও নজর রাখছে পুর–‌কর্তৃপক্ষ। এই পুরসভার ১, ২, ৮, ৯, ১২ এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ডগুলি মহানন্দা তীরবর্তী। ওইসব ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলছে নৌকো পারাপার। সড়কপথে গাড়ির খরচ বাঁচাতে সামান্য পয়সায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই যাত্রীরা নৌকায় চেপে বসছেন। যার মধ্যে স্কুল–কলেজ পড়ুয়ার সংখ্যাই বেশি।
ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান নীহার ঘোষ জানিয়েছেন, ‘‌মালদা শহরের সদরঘাট এবং মিশন ঘাট এই দুটি এলাকায় মূলত ফেরিঘাট রয়েছে। সেই জায়গায় পুরসভার নজরদারি রয়েছে। এর বাইরে যদি অন্য কোথাও অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নৌকো চলাচল করে, তাহলে অবশ্যই সেদিকেও নজর রাখা হবে।’‌ একই বক্তব্য পুরাতন মালদা পুরসভা কর্তৃপক্ষের। চেয়ারম্যান কার্তিক ঘোষ জানিয়েছেন, ‘‌এই পুরসভার কয়েকটি ওয়ার্ডে মহানন্দা নদীতে ফেরিঘাট রয়েছে। বর্ষার মরশুমে যেন প্রয়োজনের তুলনায় বেশি যাত্রী না তোলা হয়, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।’‌

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবেই চলছে নদী পারাপার। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top