অলক সরকার, শিলিগুড়ি, ২৩ মার্চ- একদিনের জনতা কার্ফু জারি করার আগের দিনেই চাল ডাল মজুত করতে বাজারে হামলে পড়েছিলেন মানুষজন। এরপর লকডাউন ঘোষণা করার পর একই পরিস্থিতি দেখা দিতে শুরু করে। শিলিগুড়ির বিভিন্ন বাজারে মানু্ষ প্রয়োজনের থেকে বেশি সামগ্রী কেনাকাটা করতে শুরু করে। এই পরিস্থিতিতে অনেক সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ে যাবেন ভেবে বিধান মার্কেটের কিছু ব্যবসায়ী সময়োপযোগী নজির তৈরি করার মতো সিদ্ধান্ত নিলেন এদিন। চাল বাজারের দুই ব্যবসায়ী জানিয়ে দিলেন কাউকে এক বস্তার বেশি চাল দেওয়া হবে না। কারণ এমন কোনও পরিস্থিতি নেই যে পরে পাওয়া যাবে না। সবকিছু প্রয়োজনের চেয়ে বেশি গুদামজাত আছে।
কার্ফু জারির আগে থেকে অনেকে গুজব ছড়ানো শুরু করেন। আর এই সুয়োগে কিছু ব্যবসায়ী কালোবাজারি শুরু করে দিয়েছিলেন। বিশেষ করে চাল নিয়ে। শিলিগুড়ি শহরের কিছু পাইকারি বাজারে দামও বাড়িয়ে দেওয়া হয়ে বলে ব্যবসায়ীদের একটা অংশ থেকে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। লকডাউনের সময় যাতে এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, এবং সব মানু্ষ যাতে খাওয়ার চাল ডাল সংগ্রহ করতে পারেন, তার জন্য মানবিক সিদ্ধান্ত নেন বিধান মার্কেটের কিছু দোকানি। জানিয়ে দেওয়া হয়, কাউকেই ১ বস্তার বেশি চাল দেওয়া হবে না।
কিঙ্কর সাহা ও খোকন সাহা নামে দুই ব্যবসায়ী জানান, ‘‌মানুষে বিনা কারণেই বাড়িতে বাড়তি চাল মজুত করছে। অপ্রয়োজনে ৪–‌৫ বস্তা করে চাল বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। এসব বন্ধ করতেই ১ বস্তার বেশি চাল কাউকেই দিচ্ছি না। দোকান খোলা থাকবে। মানুষ যখন দরকার পড়বে তখন এসে চাল কিনতে পারবেন। কাউকে বেশি দাম দিতে হবে না।’‌ ব্যবসায়ীদের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন। কিন্তু দেখা গেল, ওই বাজারেই অনেকে সেই অতিরিক্ত চালের বস্তা বিক্রি করছেন। ফলে এই ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক কঠোরতা দাবি করছেন অনেকে। নইলে পরে আরও সমস্যা তৈরি হতে পারে। 

চালের বস্তা নিয়ে বসে আছেন ব্যবসায়ী। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top