অলক সরকার,শিলিগুড়ি: পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুওলজিক্যাল পার্কে পরপর দুই রেড পান্ডার জন্ম ঘিরে তৈরি হয়েছে খুশির আবহ। প্রায় বিলুপ্ত হতে–‌চলা রেড পান্ডাকে ক্যাপটিভ ব্রিডিং সেন্টারে সফল প্রজনন ঘটিয়ে গোটা বিশ্বে দার্জিলিং চিড়িয়াখানা নিজের পরিচিতি করে নিয়েছে। এই চিড়িয়াখানার দৌলতেই দার্জিলিঙের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ফিরে এসেছে বিরল প্রজাতির রেড পান্ডা। নতুন করে আরও দুই অতিথির আগমনে স্বাভাবিক ভাবেই খুশি প্রকৃতিপ্রেমী থেকে বনকর্তারা। দার্জিলিঙের জঙ্গলে আবার রেডপান্ডা ফিরবে বলে আশাবাদী প্রকৃতিপ্রেমীরা। 
এই মুহূর্তে ওই শাবকের কাছে যাওয়ার বা ছবি তোলার অনুমতি নেই। চিড়িয়িখানার ডিরেক্টর রাজেন্দ্র জাখর জানান, শাবক দুটিকে অন্তত ৩ মাস বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। জানা গেছে, চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জাতীয় রেড পান্ডা প্রজনন প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয় করছে। ১৯৫৮ সালে এই চিড়িয়াখানা স্থাপিত হলেও, এখানে স্নো লেপার্ড–‌এর প্রজনন ১৯৮৩ সালে শুরু করা হয়। রেড পান্ডা প্রজনন কর্মসূচি শুরু হয় ১৯৯০ সালে। কিন্তু সফল প্রজনন হয় ১৯৯৪ সালে। এই মুহূর্তে দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় ১৩ মেয়ে রেড পান্ডা ও ৮ পুরুষ রেড পান্ডা আছে। তবে সদ্য জন্ম নেওয়া এই শাবকগুলি নিয়ে কী পরিকল্পনা আছে, সে ব্যাপারে এখনই কিছু বলতে পারছেন না পার্ক কর্তৃপক্ষ। 
১৯৫৮ সালে ৭০০০ ফুট উচ্চতায় তৈরি পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুওলজিক্যাল পার্কে স্নো লেপার্ড, হিমালয় অঞ্চলের বিপন্ন প্রজাতির নেকড়ে এবং লাল পান্ডার সফল কৃত্রিম প্রজনন সম্ভব হয়েছে। এর প্রাথমিক উদ্দেশ্যই হিমালয় অঞ্চলের প্রাণীগুলির গবেষণা ও সংরক্ষণ। পার্কটিতে ১৯৬০ সালে সোবিয়েত রাশিয়া উপহার হিসেবে একজোড়া সাইবেরিয়ান বাঘ দিয়েছিল ভারতকে। এখন এখানে বিপন্নপ্রায় স্নো লেপার্ড, রেড পান্ডা, গোরাল (পাহাড়ি ছাগল), সাইবেরিয়ান বাঘ–‌সহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি রয়েছে।  ১৯৯৩ সালের মে মাসে পার্কটিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বন বিভাগের অধীনে নেওয়া হয়। রেড পান্ডা ছাড়াও চিড়িয়াখানাটিতে নীল ভেড়া, হিমালয়ের মোনাল, ধূসর ময়ূর, হিমালয়ের স্যালামান্ডার, তিব্বতীয় নেকড়ে ইত্যাদি প্রাণীর প্রজনন করা হয়। ২০১৯ সালে ভুটানের জাতীয় প্রাণী মিশমি টাকিন সকলের দেখার জন্য আনা হয়, ভবিষ্যতে যাদের প্রজনন ঘটিয়ে বংশবৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। 

রেড পান্ডা। ছবি:‌ প্রতীকী‌

জনপ্রিয়

Back To Top