দিব্যেন্দু ভৌমিক, কোচবিহার, ১ জুলাই- ঐতিহ্য মেনে ভিন্ন ধারায় রথের প্রস্তুতি কোচবিহারে। সর্বত্র রথে চেপে জগন্নাথ দেব মাসির বাড়ি গেলেও কোচবিহারে রথে চেপে মাসির বাড়ি যান ‘‌ভাগ‌নে মদন’। অর্থাৎ কোচবিহার মহারাজাদের কুলদেবতা মদনমোহন। ভাগনে আসবে তাই মাসির বাড়িতে সাজো সাজো রব। একবছর পরে ভাগনে আসছেন, থাকবেন সাতদিন। মাসির বাড়ি না সাজালে চলে। তাই কোচবিহারের মদনমোহনের রথ যাত্রাকে ঘিরে মাসির বাড়ি অর্থাৎ গুঞ্জবাড়ির ডাঙরাই মন্দির ও মন্দির চত্ত্বরে চলছে নানান কর্মকাণ্ড। 
যে রথে মদনমোহন চেপে আসবেন তাতে নতুন করে রঙের প্রলেপ পড়েছে। সারা বছর এই মন্দির বা মদনমোহনের মাসির বাড়িতেই রথ থাকে। এখানে ভাগনে মদনের জন্য আলাদা ঘর আছে। এই ঘর সারা বছর ফাঁকাই রাখা হয় ‘‌বড়বাবা’‌ মদনমোহনদেবের জন্য। সেই ঘরও এখন সেজে উঠছে। ডাঙরাই মন্দির সংলগ্ন গোটা গুঞ্জবাড়ি চত্বরে প্রস্তুতি তুঙ্গে। দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ডের এই মন্দির ও রথ সংস্কারের জন্য এবারের বাজেট ৩৮, ৬১৭ টাকা। ডাঙরাই মন্দির কোচবিহার দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ড পরিচালিত। রাজ আমলে ১৮২১ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এখানে আছেন ছোটো মদনমোহন, মহাদেব, কালী, দুর্গা, বিপত্তারিণী ও বনদুর্গা। সকলেরই নিত্য পুজো হয় এখানে। তবে রথযাত্রাকে ঘিরে ডাঙরাই মন্দির হয়ে ওঠে রাজনগরের মানুষের গন্তব্য। ১০৮ কলসের জলে মদনমোহনের স্নান হয়ে গেছে সেই জৈষ্ঠ পূর্ণিমাতেই। বুধবার সন্ধ্যারতির পর ‘‌বড়বাবা’‌-‌র অধিবাস। বৃহস্পতিবার সকালে আবার স্নান। দুপুরে কাঠামিয়া মন্দিরে বিশেষ পুজো। ভোগ পাচক, ভোগবারিয়ারা সাজিয়ে দেবেন পরমান্ন, পাঁচ রকম ভাজা। নিবেদন করবেন রাজপুরোহিত হীরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। দুপুরের আহার শেষে একটু বিশ্রাম। ততক্ষণে মদনমোহন ঠাকুরবাড়ির সামনে বৈরাগীদীঘির সামনে চলে আসবে মাসির বাড়ি থেকে সুসজ্জিত রথ। সাহোদরদের নিয়ে রথে সওয়ার হবেন মদনমোহন। 
বিকেল ৫টায় রাজপ্রথা মেনে রাজপ্রতিনিধি অমূল্য কুমার দুয়ারবকসি প্রথম রথের দড়ি টানবেন। আগে মহারাজারাই রথের সূচনা করতেন। এরপরই ২ কিলোমিটার দূরের মাসির বাড়ি ডাঙ্গরাই মন্দিরে পৌঁছে যাবেন মদনমোহন। দেবোত্তর ট্রাস্টের সভাপতি তথা কোচবিহারের জেলা শাসক কৌশিক সাহা জানান, ‘‌মদনমোহন দেবের রথযাত্রায় নিরাপত্তার দিকে এবারে আরও বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে সিসি ক্যমেরা।’‌

এই রথেই মাসির বাড়ি যাবেন মদনমোহন। ছবি:‌ প্রসেনজিৎ শীল

জনপ্রিয়

Back To Top