সঞ্জয় বিশ্বাস, দার্জিলিং, ৮ জুলাই- রবিবার টানা বৃষ্টি হতেই ধসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ল পাহাড়। শুধু রাস্তা আটকে যাওয়াই নয়, ধসের জেরে মাটি চাপা পড়ে মৃত্যু হল এক দম্পতির। সমস্যায় পড়ল সিকিমগামী যানবাহনও। যদিও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ধস সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রশাসন নেমে পড়ে ভোর থেকেই। এদিকে, মৃত দম্পতির বাড়িতে পৌঁছে যান দার্জিলিঙের মহকুমাশাসক কৌশিক সিনহা ও জিটিএ’‌র প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান অনীত থাপা। গোটা পরিস্থিতির কথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকেও রিপোর্ট আকারে পাঠানো হবে বলেও জানানো হয়েছে। 
পাহাড়ে এবারের বর্ষায় তেমন বৃষ্টি দেখা যায়নি। তবে, রবিবার টানা বৃষ্টি হয়েছে। সেই বৃষ্টি হতেই ধসে জেরবার হল পাহাড়। জানা গেছে, রাত দেড়টায় সুখিয়াপোখরির কাছে পুবুং ফটকের কাছে ধস নামে। সেই ধসে হুড়হুড় করে ধসে পড়ে একটি বাড়ি। বাড়িতে থাকা এক দম্পতি মাটি চাপা পড়ে মারা যান। মৃতরা হলেন কুমার লোপচান (‌৬০)‌ এবং স্ত্রী বালকুমারী লোপচান (‌৫৫)‌। খবর পেয়ে রাতেই সেখানে আসেন পুলিশ ও দমকলকর্মীরা। চলে উদ্ধারকাজ। মৃত কুমার লোপচানের ভাই সুবাস লোপচান জানান, রাতে আচমকা পাহাড় কেঁপে ওঠে। কী হল দেখার জন্য বাইরে বেরিয়ে দেখি, দাদার ঘরদোর কিছুই নেই। ধসের নীচে পড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তিনটি গাড়ি। এই গাড়িতে পর্যটকদের ঘোরানো হত। তবে রক্ষা পেয়েছেন দম্পতির ছেলে ও মেয়ে। ছেলে সিকিমে গাড়ির চালান। মেয়ে সদ্য পুলিশের চাকরিতে যোগ দেওয়ায় কর্মস্থলেই আছেন। আরও এক আত্মীয় বীরবাহাদুর রাই জানান, আমাদের আর কিছুই করার ছিল না। মহকুমাশাসক কৌশিক সিনহা ও জিটিএ চেয়ারম্যান অনীত থাপা পরিদর্শনে যান। বিপজ্জনক বাড়িঘর থেকে মানুষজনকে আপাতত নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার কথা বলেছে প্রশাসন।  
এদিকে, শিলিগুড়ির কাছে সেবক থেকে তিস্তা বাজারের কাছে তিন জায়গায় ধস নামে। সিকিমগামী ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ধসের কারণে সিকিম এবং শিলিগুড়ির মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। পথ থেকে ধস সরিয়ে সড়ক যোগাযোগ খুলে দেওয়ার কাজে নেমে পড়ে কালিম্পং জেলা প্রশাসন। তবে রাস্তার অবস্থা বেহাল হওয়ায় ব্যাপক যানজট তৈরি হয় পাহাড়ি পথে। সোমবার সকালের দিকে একমুখী যান চালিয়ে কোনওরকমে স্বাভাবিক করার চেষ্টা হয়। এদিকে, এই পরিস্থিতির মধ্যেও দার্জিলিঙে ট্রাফিক পুলিশ সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ নিয়ে প্রচার চালাতে মিছিল করে। 

ধসে চাপা পড়েছে আস্ত বাড়ি। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top