অলক সরকার ● সঞ্জয় বিশ্বাস,সুকনা ও দার্জিলিং: ধসের জেরে বিপর্যস্ত কার্শিয়াঙের পাগলাঝোরা এলাকা। বুধবার বিকেল থেকেই দার্জিলিংগামী ৫৫ নম্বর জাতীয় সড়ক পুরোপুরি বন্ধ। বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর কাজ শুরু করেছিল। বৃহস্পতিবারের মধ্যেই রাস্তা খুলে যাওয়ারও কথা ছিল। কিন্তু আবহাওয়া এতই খারাপ যে এই অবস্থায় মেরামতির কাজ করাও বেশ মুশকিল। তা ছাড়া ফের ধস নামতে পারে, এমন আশঙ্কাও আছে। তাই আবহাওয়ার উন্নতি না–‌হলে রাস্তা সারাইয়ের কাজ শুরুও করা যাচ্ছে না।
পাহাড় থেকে লাগাতার বোল্ডার রাস্তায় পড়তে থাকায় প্রায় ৬০ মিটার রেললাইনও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিংগামী টয় ট্রেনকে তিনধারিয়ায় আটকে দেওয়া হয়েছিল। অন্য দিকে শিলিগুড়িগামী টয় ট্রেন কার্শিয়াং স্টেশনে আটকে দেওয়া হয়। এদিন আবার রেল দপ্তর থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছে, যাত্রী–‌নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ৫ আগস্ট 
পর্যন্ত নিউ জলপাইগুড়ি–‌‌দার্জিলিঙের মধ্যে টয় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। উত্তর–‌পূর্ব রেলের জনসংযোগ আধিকারিক পি জে শর্মা জানান, ‘‌আবহাওয়া এতটাই প্রতিকূল যে ধস সরানোর কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এর মধ্যে ধস সরাতে গেলে যে–‌কোনও সময় বিপদ ঘটতে পারে। তাই বৃষ্টি কমার অপেক্ষা করা হচ্ছে।’‌
এদিন তিনধারিয়া পার করে মহানদী ও গয়াবাড়ির মাঝামাঝি পাগলাঝোরা এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, ধসের এলাকায় কেউ পৌঁছোতেই পারছে না। বৃষ্টি আর ঘন কুয়াশার জেরে কিছুই চোখে পড়ছে না। এই আবছা পরিবেশের মধ্যে মাঝে মাঝে শুধু পাথর গড়িয়ে পড়ার শব্দ শোনা যাচ্ছে। এদিন রেলের এক প্রতিনিধিদল সেখানে গিয়ে সরেজমিনে দেখে এসেছে। যদিও এই জাতীয় সড়ক দিয়ে এখন দার্জিলিঙের সব গাড়ি যাতায়াত করে না। সমস্ত যানবাহন পাঙ্খাবাড়ি হয়ে ঘুরে যাচ্ছে। তবে টয় ট্রেনের রাস্তা জাতীয় সড়কের ধার ঘেঁষে হওয়ায় সেটাকে আপাতত চালু রাখা যাচ্ছে না। এর মধ্যে আবার সুখিয়াপোখরির লেপচাজগৎ এলাকায় রাস্তার ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় সেখানেও যাতায়াতে ভোগান্তি হচ্ছে। দার্জিলিং থেকে ঘুম হয়ে ওই রাস্তাই যায় মিরিকের দিকে। ফলে দার্জিলিং থেকে মিরিক যাওয়ার রাস্তাটিও আপাতত বন্ধ।

স্কুলে যাওয়ার পথে আটকে পড়েছে পড়ুয়ারা। ডানদিকে, পাগলাঝোরায় রাস্তায় ধস। ছবি: সঞ্জয় বিশ্বাস

জনপ্রিয়

Back To Top