আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ মাঝেমধ্যেই খবর আসে, ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হাতির। বিশেষত উত্তরবঙ্গে এই ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটে। তবে এবারও একই ঘটনা ঘটত, যদি না উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দিয়ে ব্রেক কষে ট্রেন না থামাতেন ট্রেনের চালক। ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার। বিকেলে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে দ্রতবেগেই এগিয়ে যাচ্ছিল ডাউন ধুবরি–শিলিগুড়ি প্যাসেঞ্জার ট্রেন। আলোতে দূর থেকেই চালক দেখলেন সামনে প্রায় ১৫টি হাতির পাল। ধীরে ধীরে রেললাইন পেরিয়ে এক জঙ্গল থেকে তারা ঢুকে পড়ছে অন্যপারের জঙ্গলে। ট্রেন তখন আলিপুরদুয়ার জংশন ও রাজাভাতখাওয়া স্টেশনের মাঝে। এরপরই কোনওমতে জরুরি ব্রেক কষে ট্রেন থামিয়ে দিলেন চালক ও সহকারী চালক। তারপর প্রায় ১৫ মিনিট ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকলো সেখানেই। হাতির পাল জঙ্গলে ঢুকে পড়লে ফের চলতে শুরু করল ট্রেন। ট্রেন চালকদের তৎপরতায় এতগুলি হাতির প্রাণ বেঁচে যাওয়ায় রীতিমতো উচ্ছ্বসিত উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশন। ট্রেনের চালক হরিদাস বিশ্বাস ও সহচালক গৌতম কুমারকে পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। এই ডিভিশনের সিনিয়র কমার্শিয়াল ম্যানেজার অমর মোহন ঠাকুর বলেন, ‘‌জঙ্গলের পথে কীভাবে ট্রেন চালাবেন, সে ব্যাপারে চালক, সহকারী চালক, গার্ড এবং অন্যান্য রেলকর্মীদের আমরা বিভিন্ন সময় ট্রেনিং দিয়ে থাকি। সেখানে বনকর্তারাও উপস্থিত থাকেন। ট্রেনের চালক ও সহকারী চালকরা যে সচেতন এই ঘটনা সেটাই প্রমাণ করল। আমরা ওই ট্রেনের চালক ও সহকারী চালক দুজনকেই পুরস্কৃত করব।’‌ আলিপুরদুয়ার থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত ১৬০ কিলোমিটার রেলপথ জুড়ে হাতিদের ৮ টি করিডর রয়েছে। ২০০৩ সালে এই রেলপথ মিটার গেজ থেকে ব্রডগেজে রূপান্তরিত হয়। তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত এই পথে ট্রেনের ধাক্কায় ৫১টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে উত্তরবঙ্গে রেলে কাটা পড়ে কোনও হাতির মৃত্যু না হলেও ২০১৮ সালে ফের ট্রেনের ধাক্কায় হাতি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top