দিব্যেন্দু ভৌমিক,কোচবিহার: এলাকার মানুষের জন্য অনেক উন্নয়নের কাজ করেছেন। সদিচ্ছার ঘাটতি ছিল না কোথাও। কিন্তু ভোটের বাক্সে তার প্রতিফলন নেই। তাঁর এলাকায় লোকসভা নির্বাচনে পিছিয়ে পড়েছে তৃণমূল। কোচবিহার আসনে জিতেছে বিজেপি। বাধ্য হয়েই তাই ফেসবুকের পাতায় একইসঙ্গে শ্লেষ ও অভিমান উগরে দিলেন দিনহাটার বিধায়ক তথা দিনহাটা পুরসভার চেয়ারম্যান উদয়ন গুহ। উদয়নের এই পোস্ট ঘিরেই জেলার রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা। পক্ষে, বিপক্ষে মতামত দিচ্ছেন অনেকেই। এ নিয়ে খানিকটা অভিমানী তৃণমূল বিধায়ক জানালেন, ‘‌এত উন্নয়ন, তবু মানুষ পাশে নেই। তাই মানুষের কাছেই জানতে চাইলাম। আর রাজনৈতিক লড়াইয়ে কিছু ব্যর্থতা তো আছেই। কিন্তু শহরের উন্নয়ন কি থেমে আছে, না কম হয়েছে?‌ মানুষ বলুক।’‌
স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক বছরে উন্নয়নের কাজে খামতি ছিল না দিনহাটায়। পুর চেয়ারম্যান ও বিধায়ক হিসেবে বিশেষ উদ্যোগ ছিল উদয়ন গুহর। কখনও গাড়ি থেকে নেমে নিজেই ট্র‌্যাফিক ব্যবস্থার তদারকি করেছেন, নিজেই উঠিয়ে দিয়েছেন হকার। দিনের শেষে পুরসভার আলো, পাখা বন্ধ করে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের দায়িত্বও তিনিই নিয়েছিলেন। যখন তখন ছুটে গেছেন মহকুমা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে। রোগীর পথ্য থেকে আয়া মাসিদের বেতন, সবই খোঁজ নিয়েছেন নিয়ম করে। প্রাইভেট চেম্বারে ডাক্তারবাবুদের ২৫০ টাকা ফি বেঁধে দিয়েছেন। মোড়ে মোড়ে এলইডি বাতি স্তম্ভে সাজিয়েছেন দিনহাটা শহরকে। পুকুর থেকে রাস্তা সংস্কার করেছেন। ম্যাস্টিফের রাস্তা হয়েছে শহরে। তঁারই উদ্যোগে পুকুরে বন্ধ হয়েছে জঞ্জাল ফেলা। কমেছে যানজট। সেজে উঠেছে থানা দিঘি, রাজমাতা দিঘি, মদনমোহন দিঘি। শহরে হয়েছে কফি কর্নার। নতুন সাজে সেজে উঠেছে ‘‌নৃপেন্দ্রনারায়ণ স্মৃতি সদন’‌। এত কাজ সত্ত্বেও দিনহাটা বিধানসভায় ভোট কমেছে। আর এতেই খানিকটা অভিমান উদয়ন গুহর। ফেসবুকে পোস্ট করে সেই অভিমানের কথা তুলে ধরেছেন তিনি। পোস্টে আত্মসমালোচনার ঢঙে পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় গোলমাল না থামাতে পারা, বা ছাত্র গোলমাল সামলাতে ব্যর্থতার দায় নিজের কঁাধে নিয়েছেন উদয়ন। আবার উন্নয়নের কথা তুলে ধরে বলেছেন দিনহাটার মানুষ পছন্দ করেননি, শিক্ষা দিয়েছেন। তাই তিনি অনুতপ্ত। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এত উন্নয়নের পরও ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল। সেখান থেকেই কিছুটা হতাশা। তবে সবটাই মানুষের বিচারের জন্য ছেড়েছেন পোড়খাওয়া রাজনীতিক উদয়ন গুহ। তাঁর বিশ্বাস, মানুষই শেষ কথা বলবেন।

জনপ্রিয়

Back To Top