পার্থসারথি রায়,জলপাইগুড়ি: মিডিয়ার নজর এড়িয়ে আগেও জলপাইগুড়িতে এসে অনেকবার ভোট দিয়ে গেছেন। লোকসভা, বিধানসভা ও পঞ্চায়েত ভোট দিয়েছেন খুবই সঙ্গোপনে। তবে এবার প্রার্থী হওয়ার পর থেকে তাঁকে নিয়ে মানুষের মধ্যে অনেক বেশি উচ্ছাস। প্রচার মাধ্যমের নজরও রয়েছে তাঁর দিকেই। তাই ভোট দেওয়ার সময়ও তাঁকে ঘিরে ছিল এলাকার মানুষের ‌ভিড়। তিনি অভিনেত্রী ও তৃণমূল প্রার্থী মিমি চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়িতে নিজের পাড়ায় ভোট দিলেন কলকাতার যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী। জলপাইগুড়ির পান্ডাপাড়া কালীবাড়ি নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয় ছিল মিমির ভোটগ্রহণ কেন্দ্র। এদিন সকালে তাঁর ভোট দেওয়ার কথা থাকলেও তা হয়ে ওঠেনি। শেষে বিকেল চারটা নাগাদ মিমি পরিবারের সমস্ত সদ‍স্যকে নিয়েই আসেন ভোট দিতে। 
মিমির সুরক্ষার পাশাপাশি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে যাতে কোনও সমস্যা না হয় তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা রক্ষীরা খুবই তৎপর ছিলেন। মিমির সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী সহ অন্য তৃণমূল নেতারা। জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী বিজয়চন্দ্রের জয় নিয়ে খুবই আশাবাদী মিমি। পাশাপাশি নিজের যাদবপুর কেন্দ্রেও তিনিই জয় পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। 
ভোট দেওয়ার পর মিমি বলেন, ‘‌প্রায় প্রতিটি নির্বাচনের সময়ই কলকাতা থেকে চলে আসি আমি। এখানে এসে ভোট দেওয়াটা একটা আলাদা অনুভূতি।’‌ আরও বলেন, ‘‌জলপাইগুড়িতে এসে অনেক কাজ হল এবার। দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ির প্রার্থীর হয়ে দুদিন নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছি। ভোট দিয়েছি। নিজের পরিবার ও আত্মীয়দের সঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছি। প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলেছি। সব মিলিয়ে এই কটা দিন খুব ভাল কেটেছে।’‌ 
এদিন ভোটকেন্দ্রের বাইরে মিমিকে দেখার জন্য অসংখ্য মানুষের ভিড় দেখা যায়। সকলেই মিমির ছবি তোলার চেষ্টায় ছিলেন। তাই উৎসাহীদের একেবারে নিরাশ করেননি মিমি। কচিকাঁচাদের সঙ্গে দফায় দফায় ছবি তুলেছেন। মিটিয়েছেন সেলফির আবদার। এজন্য ভোটকেন্দ্রের পাশে ভিড় জমানো মিমিভক্তরা খুব আনন্দে ছিলেন এদিন।
জলপাইগুড়ির পান্ডাপাড়া এলাকাতেই রয়েছে মিমির মামার বাড়ি। শুক্রবার তাঁর মামাতো বোনের বিয়ে। সকালের দিকে ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেবেন বলে জানান। পরে দুপুরের দিকে যাদবপুর কেন্দ্রের নির্বাচনী প্রচারের জন্য বাগডোগরা বিমানবন্দর হয়ে কলকাতায় ফিরে যাবেন। 
মিমির মামা রাম চক্রবর্তী জানান, এই এলাকায় তাঁদের অনেক আত্মীয়। একদিকে দাদার মেয়ের বিয়ে। অন্যদিকে মিমিও এসেছে এখানে। জলপাইগুড়িতে আসার পর মিমিকে নিয়ে সকলেই খুব উচ্ছ্বসিত।

উৎসাহীদের ভিড়ের মাঝে মিমি। পাশে আছেন তাঁর রিকশাওয়ালা ‘‌মামা’‌ সঞ্জয় পাসোয়ানও। বৃহস্পতিবার। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top