পার্থসারথি রায়, জলপাইগুড়ি ও সুনীল চন্দ, রায়গঞ্জ: বিক্ষিপ্ত দু–‌‌একটি ঘটনা ছাড়া শান্তিতেই মিটল জলপাইগুড়ি ও রায়গঞ্জ কেন্দ্রের ভোট। বিরোধীরাও মানছেন, কিছু এলাকায় অশান্তি হলেও অধিকাংশ জায়গায় শান্তিপূর্ণ ভোটই হয়েছে। বিকেল পাঁচটার আগেই জলপাইগুড়িতে ভোট পড়ল আশি শতাংশের ওপর। রায়গঞ্জেও ভোটদানের হার ভালই।   
বৃহস্পতিবার বুথের বাইরে আচমকাই গুলি চালানোর অভিযোগ উঠল জলপাইগুড়ির ঘুঘুডাঙায়। শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। এছাড়া ধূপগুড়ির একটি বুথে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে গোলমাল বাধলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা পরিস্থিতি সামাল দেন। জেলায় কোথাও কোথাও ইভিএম বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়পুরের হাকিমপাড়া বিএফপি স্কুলে থাকা ১৮/‌২২৬ নম্বর বুথে সকাল থেকেই বিশাল লাইন ছিল। কিন্তু ৬২টি ভোট হওয়ার পর যন্ত্রে বিভ্রাট। প্রায় সোয়া ৯টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে। শ’‌পাঁচেক ভোটারকে দু ঘণ্টারও বেশি সময় বসে থাকতে দেখা যায়। জলপাইগুড়ির আরও কয়েকটি বুথেও একই ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে, রাজগঞ্জ ব্লকের তালমায় কয়েকটি পরিবারকে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। জেলা বিজেপি নেতা বাপি গোস্বামী বলেন, ‘‌রিগিং ও সন্ত্রাসের চেষ্টা করলেও মানুষের প্রতিরোধে তা বেশিক্ষণ টেকেনি।’‌ জলপাইগুড়ি সিপিএম জেলা সম্পাদক সলিল আচার্য বলেন, ‘‌মানুষ যতটা শান্তিপূর্ণ ভোট চাইছিলেন, হয়ে ওঠেনি। কিছু ছাপ্পা ভোট হয়েছে।’‌ কংগ্রেস প্রার্থী মণিকুমার দার্নাল বলেন, ‘‌ময়নাগুড়িতে আতঙ্ক তৈরি করে ব্যাপক ছাপ্পা ভোট হয়েছে। কংগ্রেস নেতা অম্লান মুন্সির বাড়িতে হামলারও অভিযোগ।’‌ বিদায়ী সাংসদ ও তৃণমূল প্রার্থী বিজয়চন্দ্র বর্মনের কথায়, উৎসবের মেজাজেই ভোট হয়েছে। জয় নিয়ে সংশয় নেই।‌ বিজেপির প্রার্থী জয়ন্ত রায়, সিপিএম প্রার্থী ভগীরথ রায়ও বিভিন্ন এলাকায় চষে বেড়ান। কিছু অভিযোগ থাকলেও তাঁদেরও দাবি, ভোট ভালই হয়েছে। জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচন আধিকারিক শিল্পা গৌরিসারিয়া জানান, বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জলপাইগুড়ি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৮২.‌৭৬ শতাংশ। 
রায়গঞ্জ কেন্দ্রের অধীন ইসলামপুর ও গোয়ালপোখরে দু–‌একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ভোট হয়েছে শান্তিতেই। সকাল থেকেই বুথে বুথে লাইন পড়ে। বেশ কিছু কেন্দ্রে অভিযোগ ওঠে ইভিএম খারাপের। করোনেশন হাইস্কুলে মহিলা পরিচালিত ১৩৩ এবং ৩৫/‌১৩৪ নম্বর কেন্দ্রে বিজেপি কর্মীরা মহিলার বদলে পুরুষ এজেন্ট দেওয়ার দাবি জানালে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিজেপি প্রার্থী দেবশ্রী চৌধুরি এলে বিক্ষোভের মুখে পড়েন। রায়গঞ্জের আবদুলঘাটায় দেরিতে শুরু হলেও ভোট হয়েছে শান্তিপূর্ণ। ইসলামপুরের পাটাগোড়া বুথে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে গাড়ি ভাঙচুর হয় সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সেলিমের। সেলিমের সঙ্গী এক স্থানীয় সাংবাদিক জখম হন। আহত হন এক বৈদ্যুতিন মাধ্যমের সাংবাদিক ও চিত্রগ্রাহকও। রায়গঞ্জ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কানাইয়ালাল আগরওয়াল ভোট দেন ইসলামপুর বাজার হিন্দি প্রাথমিক স্কুল বুথে। কংগ্রেস প্রার্থী দীপা দাশমুন্সি ছেলে মিছিলকে নিয়ে ভোট দিতে যান কালিয়াগঞ্জের মহেন্দ্রগঞ্জ ২ নম্বর স্কুল বুথে। এবারই প্রথম ভোট দিলেন মিছিল।  
তৃণমূল জেলা সভাপতি অমল আচার্য বলেন, ‘‌দু–একটি ঘটনা ছাড়া ভোট হয়েছে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ। কানাইয়ালাল জিতছেন।’‌ মহম্মদ সেলিমও মেনে নিয়েছেন শান্তিপূর্ণ ভোটের কথা। বিজেপি প্রার্থী দেবশ্রী চৌধুরিও আশাবাদী জয় নিয়ে। বলেন, ‘‌তৃণমূলের ছাপ্পা রুখে দিতে পেরেছি।’‌ দীপার তৃণমূলের বিরুদ্ধে বুথ জ্যামের  অভিযোগ থাকলেও নিজের জয় নিয়ে আশাবাদী।

লম্বা লাইন। জলপাইগুড়ির পাহাড়পুরে। ছবি:‌ পার্থসারথি রায়

জনপ্রিয়

Back To Top