আজকালের প্রতিবেদন,শিলিগুড়ি: ফের পাহাড় মাতল মমতায়। কার্শিয়াঙে বৃহস্পতিবার আরও একবার জনসংযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। গেলেন গিদ্দাপাহাড়ে নেতাজি মিউজিয়ামে। রাজ্য সরকারের হাতে সংস্কারের পর পরিদর্শন করলেন মিউজিয়ামটি। জানালেন নেতাজির প্রতি শ্রদ্ধা।
কার্শিয়াঙে বুধবারই দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার প্রশাসনিক বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এদিন কার্শিয়াং থেকে শিলিগুড়িতে ফিরে আসেন তিনি। সকাল থেকে কার্শিয়াঙে ছিল কনকনে ঠান্ডা। কুয়াশাচ্ছন্ন ছিল গোটা শহর। তার মধ্যেই পায়ে হেঁটে বের হন মুখ্যমন্ত্রী। কার্শিয়াঙের কাছেই মহানদী এলাকায় রাস্তার দু’‌ধারে মহানদী হাইস্কুলের পড়ুয়ারা সারিবদ্ধ ভাবে দঁাড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানায়। এই সুসংহত অভ্যর্থনায় আপ্লুত হন মুখ্যমন্ত্রীও। তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানকে কাছে পেয়ে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত ছিল পড়ুয়ারাও। রাস্তায় শিশুদের দেখে আদরও করেন তিনি। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী চলে যান গিদ্দাপাহাড়ে। এখানেই শরৎচন্দ্র বসুর বাড়িতে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে গৃহবন্দি করে রেখেছিল ব্রিটিশ সরকার। ২০১৭ সালে এই ঐতিহাসিক বাড়িটির সংস্কার করে রাজ্য। বাড়িটিকে এখন নেতাজি সংগ্রহশালা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। ঐতিহাসিক যাবতীয় স্মারক অটুট রেখেই বাড়িটির সংস্কার করা হয়েছে। এদিন সংস্কারের কাজ ঘুরে দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ব্রিটিশরা দু’‌বছর এখানে নজরবন্দি করে রেখেছিল। এটা একটা প্রসিদ্ধ স্থান, ঐতিহাসিক স্থান। আমি মনে করি, নেতাজি দেশের মহান সন্তান, কিন্তু আজ পর্যন্ত আমরা জানি না তঁার ভবিষ্যৎ কী হল, এবং তিনি কোথায় আছেন?‌’‌ মুখ্যমন্ত্রী একাধিকবার দার্জিলিং ম্যালে রাজ্য সরকারের তরফে নেতাজির জন্মজয়ন্তী পালন করেছেন। নেতাজির ঐতিহাসিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দার্জিলিং–‌ও জড়িয়ে আছে। এদিন ফের একবার মুখ্যমন্ত্রী সেই সম্পর্ককে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘‌দার্জিলিঙে 
নেতাজি অনেক দিন কাটিয়েছেন, গোর্খা সেনাদের সঙ্গেও তঁার বেশ ভাল সম্পর্ক ছিল।’‌ নেতাজি মিউজিয়ামে রাখা নেতাজির আবক্ষ মূ্র্তিতে এদিন খাদা পরিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী। 

গিদ্দাপাহাড়ে নেতাজির মূর্তিতে মালা দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। ছবি: আজকাল

জনপ্রিয়

Back To Top