পার্থসারথি রায়,জলপাইগুড়ি: এনআরসি আতঙ্কে এবার গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হলেন লুপ্তপ্রায় মুর্শিয়া গানের এক প্রবীণ কবি। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির পাশে একটি গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় তাঁকে। মৃতের নাম মহম্মদ সাহাবুদ্দিন (৬৯)। জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বাহাদুর গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার পাখাধরা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত মহম্মদ সাহাবুদ্দিন লুপ্তপ্রায় মুর্শিয়া ও ভাওয়াইয়া সঙ্গীতশিল্পী ও কবি ছিলেন। এ ছাড়া সত্যপির, পালাটিয়া প্রভৃতি লোকগানের কবিও ছিলেন। এজন্য সরকারি শিল্পীভাতাও পেতেন তিনি। মৃতের পরিবারের লোকজনদের অভিযোগ, এনআরসি নিয়ে একটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। অনেক চেষ্টা করেও এই সংক্রান্ত কোনও কাগজপত্র না পেয়ে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। সেই কারণেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি দুলাল দেবনাথ বলেন, ‘‌এনআরসি আতঙ্কে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বেশ কিছুদিন ধরেই এই নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। বিষয়টি আমি পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেবকে জানিয়েছি। তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি কৃষ্ণকুমার কল্যাণীকেও জানিয়েছি। আমরা সবাই তাঁর পরিবারের পাশে রয়েছি।’‌
মৃতের আত্মীয় সাহাবুব আলম বলেন, ‘‌গত কয়েক দিন ধরেই পুরনো কাগজপত্র ও দলিল খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। স্বজনদের কাছেও বারবার এই নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। পুরনো কাগজপত্র না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয় তাঁকে।’‌ প্রতিবেশী মসিদার রহমান বলেন, ‘‌আগের দিন রাতে টিভিতে এনআরসি নিয়ে খবর দেখার পর আরও বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তার জেরেই হয়তো আত্মঘাতী হয়েছেন। এই ঘটনার পর এনআরসি নিয়ে গ্রামবাসীদের আতঙ্ক আরও বেড়ে গেল।’‌ 
কবির মৃত্যুর ঘটনায় এদিন শোকপ্রকাশ করেন জলপাইগুড়ির বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও গবেষক উমেশ শর্মা। বলেন, লোকগানের কবি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক ছিল। মুর্শিয়া, সত্যপির, পালাটিয়া, চোরচুরনি প্রভৃতি লোকগানের কবি ও সঙ্গীতশিল্পী ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে লোকসংস্কৃতি জগতের অনেক ক্ষতি হল।’‌ জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশ সুপার অভিষেক মোদি জানান, এই মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 মহম্মদ সাহাবুদ্দিন

জনপ্রিয়

Back To Top