আজকালের প্রতিবেদন, শিলিগুড়ি: পাহাড়ে ধসজনিত পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও লাগাতার বর্ষণে এখনও বন্যা পরিস্থিতি রয়েছে আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলায়। জলপাইগুড়িতে জলে ভেসে মৃত্যু হয়েছে একজনের। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলার বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব। রবিবার রাতেই মুখ্যমন্ত্রীকে একদফা রিপোর্ট দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। গৌতমবাবু বলেন, ‘‌দার্জিলিং জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজ নিচ্ছি।’‌
শনিবার রাতের দিকে সেবকের কাছে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে শ্বেতীঝোরার ধস সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং যাওয়ার ৫৫ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়েও একমুখী যান চলাচল করছে। খোলা আছে রোহিণী–‌কার্শিয়াং হয়ে দার্জিলিং যাওয়ার রাস্তা। মোটের ওপর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও পাহাড়ের রাস্তায় এখনও রয়েছে বড় বড় ফাটল। কোথাও কোথাও ঝুরো পাথর পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসছে। আশঙ্কা, বৃষ্টি কমে পাহাড় শুকনো হলে ফের ধস নামতে পারে। এই পরিস্থিতিতে খুব একটা স্বস্তিতে নেই পাহাড়ের বাসিন্দারা। 
শনিবার সন্ধে থেকে মুষলধারায় বৃষ্টির জেরে গভীর রাতে ভাসে গোটা জলপাইগুড়ি শহর। দোকান বন্ধ করে রাতে বাড়ি ফেরার সময় জলে ভেসে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের। মৃত যুবকের নাম বিমল শীল। তিস্তার সংরক্ষিত এলাকায় হলুদ সঙ্কেত জারি হয়েছে। তিস্তা পাড়ের অন্তত চারশো বাড়িতে জল ঢুকে গেছে। শুক্রবার জলপাইগুড়িতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ১৪০ মিলিমিটার। শনিবার সকালে ১৫৪ মিলিমিটার। এরপর শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৪ মিলিমিটার। তবে পাহাড়ে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় দুপুরের দিকে তিস্তার জলস্তর কিছুটা নামতে শুরু করে। তবে জলস্তর বেড়েছে জলপাইগুড়ি শহরের মাঝখান দিয়ে বয়ে চলা করলা নদীতে। করলার জল উপচে পড়ে ভেসেছে পুরসভার ২৫টি ওয়ার্ড। ‌
অন্যদিকে, ভুটান পাহাড় জুড়ে একটানা বৃষ্টি, ডুয়ার্সের সমতলেও লাগাতার ভারী বর্ষণের জেরে জলবন্দি আলিপুরদুয়ারের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। পুরসভা এলাকায় চারটি ওয়ার্ডে নামানো হল নৌকা। কালজানি নদীর চরবাঁধ এলাকায় সিংহভাগ বাড়ি জলের তলায় চলে যায়। রবিবার ভোরবেলা থেকে কালজানি নদীর বাঁধে আশ্রয় নেন বানভাসি মানুষ। পুরসভার প্রশাসক কৃষ্ণাভ ঘোষ বলেন, ‘‌কালজানি নদীর জলস্তর উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। সেজন্য স্লুইস গেটগুলি বন্ধ রাখা হয়। তাতেই শহরের ভেতর জল বেড়েছে। তবে প্রশাসন সবরকম পরিস্থিতির জন্য তৈরি রয়েছে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top