আজকালের প্রতিবেদন, শিলিগুড়ি, ১০ সেপ্টেম্বর- পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবারের ডাকা ভারত বন্‌ধে তেমন সাড়া পড়ল না উত্তরবঙ্গে। অফিস কাছারি থেকে গণপরিবহণ পুরোপুরি স্বাভাবিক ছিল। বিক্ষিপ্তভাবে কিছু এলাকায় দোকানবাজার কিছুটা বন্ধ থাকলেও সামগ্রিক ভাবে জনজীবনের উপর তার তেমন কোনও প্রভাব পড়েনি। শুধুমাত্র বৃষ্টির জেরে কিছুটা বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। 
এদিন সকাল থেকেই বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা। যার জেরে বহু মানুষ এদিন ঘর থেকেই বের হতে পারেননি। তা সত্ত্বেও শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোড, বর্ধমান রোড, সেবক রোডের বড় দোকানপাট সবই ছিল খোলা। বিধানমার্কেটে দিনের শুরুতে দোকানপাট না খুললেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ একটু কমতেই  দোকানপাট খুলতে শুরু করে। সরকারি পরিবহণ স্বাভাবিকভাবে চলেছে। তবে বেসরকারি পরিবহণ স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম ছিল। শহরের  এদিন বন্‌ধের সমর্থনে পথে নামে কংগ্রেস ও বামেরা। কংগ্রেস সমর্থকদের বিরুদ্ধে একটি মোবাইল দোকানে জোর করে বন্ধ করার অভিযোগ উঠেছে। সেবক রোডের একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কও বন্ধ করে দেয় বনধ সমর্থকরা। শিলিগুড়িতে ১০ জন বন্‌ধ সমর্থনকারীকে আটক করেছে পুলিস। 
দার্জিলিং পাহাড়ে বনধেছে ছিটেফোঁটা প্রভাব ছিল না। কোচবিহার জেলাতেও বিক্ষিপ্তভাবে কিছু এলাকায় বন্‌ধে জনজীবন ব্যাহত হয়। শহরেও এনবিএসটিসি–‌র বাস চলাচল করতে দেখা গেছে। অফিস, স্কুল কলেজ ছিল মোটের উপর স্বাভাবিক। হলদিবাড়িতে বন্‌ধের আংশিক প্রভাব লক্ষ করা যায়। এই বন্‌ধকে সর্বাত্মক বলে দাবি করেছেন কোচবিহার জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক তারিণী রায়। যদিও বন্‌ধকে ব্যর্থ বলে দাবি করেন শাসকদলের নেতারা। মালদায় কংগ্রেসের দুই সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরি, মৌসম নুর–‌সহ বিধায়করা রাস্তায় নামলেও দোকান খোলাই ছিল। স্বাভাবিকভাবেই চলেছে সরকারি–‌বেসরকারি যানবাহন। স্বাভাবিক ছন্দে বাজারহাট, দোকান সবই ছিল খোলা। মৌসুম বলেন, পুলিস নামিয়ে বন্‌ধ ব্যর্থ করার চেষ্টা করেছে শাসক দল তৃণমূল। তৃণমূল কংগ্রেসের জেলার কার্যকরী সভাপতি বাবলা সরকার বলেন, ‘‌বন্‌ধ ও অবরোধের সংস্কৃতিকে বিদায় জানিয়েছে বাংলার মানুষ।’‌ সকালে তুমুল বৃষ্টির মধ্যে রায়গঞ্জ শহরে বন্‌ধের বিরোধিতায় পথে নামে তৃণমূল কংগ্রেস। রায়গঞ্জে সরকারি ও বেসরকারি বাস চলাচল করেছে। তবে যাত্রী সংখ্যা কম ছিল। স্কুল, কলেজ খোলা খোলা ছিল। 
আলিপুরদুয়ারেও বন্‌ধের মিশ্র সাড়া।‌ দক্ষিণ দিনাজপুরেও কার্যত বনধের কোনও প্রভাবই পড়েনি বলে জানা গেছে। জলপাইগুড়িতে কদমতলা, ডিবিসি রোড, মার্চেন্ট রোড, দিন বাজার, ইন্দিরা কলোনি বাজার, শান্তিপাড়া এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে বনধের প্রভাব পড়ে। বনধের সমর্থনে বাম ও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি মিছিল বের হয় শহরে। গন্ডগোল এড়াতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিসি টহল ছিল যথেষ্ট। বিভিন্ন স্কুলগুলো খোলা থাকলেও ছাত্রছাত্রীদের দেখা মেলেনি। সরকারি অফিসগুলো খোলা ছিল সর্বত্র। 

দেখে বোঝার উপায় নেই বন্‌ধ। দুপুর বারোটায় বালুরঘাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। ছবি: পবিত্র মোহান্ত

জনপ্রিয়

Back To Top