প্রভাস রায়, শিলিগুড়ি: বুধবার পরীক্ষামূলকভাবে গুঞ্জরিয়া থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত চলল বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন। এদিন সন্ধে নাগাদ নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের ইয়ার্ড পর্যন্ত আসে ট্রেনটি। শিয়ালদা থেকে মালদা পর্যন্ত ইতিমধ্যেই ট্রেন লাইনের বৈদ্যুতীকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সেই পথে ট্রেনও চলছে। কাটিহার থেকে এবার জুড়তে চলেছে নিউ জলপাইগুড়ি। সরাসরি এবার বৈদ্যুতিক লাইনের মাধ্যমে যুক্ত হচ্ছে শিয়ালদা–নিউ জলপাইগুড়ি। খুব শিগগিরই গুয়াহাটি থেকে এনজেপি হয়ে শিয়ালদা ও কাটিহার পর্যন্ত বৈদ্যুতিক ট্রেনও চলবে বলে রেল সূত্রে জানা গেছে।
যদিও দূরত্বের হিসেবে কিলোমিটার কিছুই কমেনি। কিন্তু গতির হেরফেরে যাত্রার সময় কমছে কলকাতা এবং শিলিগুড়ির মধ্যে। কেন না ডিজেল ইঞ্জিনের পরিবর্তে এখন দূরপাল্লার ট্রেনগুলি চলবে ইলেকট্রিক ইঞ্জিনে। এনজেপি–শিয়ালদা‌র মধ্যে যে ট্রেনগুলি চলাচল করে সেই ট্রেনের সময় এবার লাগবে ৯–১০ ঘণ্টা। যা এতদিন লাগত ১১–১২ ঘণ্টা। রেল কর্তাদের বক্তব্য, আরও নতুন কিছু ট্রেন চলাচল শুরু করবে এই পথে। বুধবার পরীক্ষামূলকভাবে একটি ইলেকট্রিক ইঞ্জিন চালানো হয়। ইঞ্জিনটি উত্তর দিনাজপুর জেলার গুঞ্জরিয়া থেকে এসে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে পৌঁছোয়। এবার দার্জিলিং মেল, পদাতিক এক্সপ্রেস, শতাব্দী এক্সপ্রেস, কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস–সহ অন্য ট্রেনগুলি বিদ্যুতে চলবে। উত্তর–পূর্ব সীমান্ত রেল সূত্রে খবর, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই দূরপাল্লার ট্রেনগুলি চালানো হবে ইলেকট্রিক ইঞ্জিনে। ইতিমধ্যে এনজেপি স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম শেডের উচ্চতা বেড়েছে। অনেকদিন আগেই মালদার সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে বৈদ্যুতিকরণের কাজ শেষ হয়েছে। মালদা থেকে তাই শিয়ালদা পর্যন্ত বৈদ্যুতিক ট্রেন চলছে। এবার জুড়ল কাটিহার থেকে মালদা ভায়া কুমেদপুর হয়ে এনজেপি পর্যন্ত। পরে নিউ আলিপুরদুয়ার হয়ে ধাপে ধাপে চলে যাবে অসমের গুয়াহাটি পর্যন্ত।
রেল সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের মার্চ মাসের মধ্যে উত্তর–পূর্ব সীমান্ত রেলের ৬ হাজার ২৪২ কিমি রেলপথের ৫০ শতাংশেরও বেশি বিদ্যুদয়নের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। এনএফ রেলওয়ের কাটিহার ডিভিশনের ৩১৫ কিলোমিটার রেলপথের বৈদ্যুতিকরণ সম্পন্ন হয়েছে। এনজেপি থেকে গুয়াহাটি পর্যন্ত এই কাজে ৭০০ কোটি টাকা রেল খরচ করেছে। আগস্টে এনজেপি পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে। 
 

জনপ্রিয়

Back To Top