সঞ্জয় বিশ্বাস, দার্জিলিং: পুজোর মরশুমে পাহাড় বন্‌ধ। সেই বন্‌ধ একদিনের হলেও পর্যটকদের অনেকটাই বিপাকে পড়তে হল। বন্‌ধের বিরোধিতা সত্ত্বেও শ্রমিক স্বার্থে এই পথে পা বাড়াতে হয়েছে পাহাড়ের শাসক–‌‌বিরোধী সব দলকে। তবে পর্যটনের কথা মাথায় রেখে বিনয়পন্থী মোর্চা এদিন আমরণ অনশনের পথে হাঁটছে। আগামী ৬ অক্টোবর থেকে তাঁরা আমরণ অনশনে বসবেন বলে জানিয়েছেন মোর্চা সভাপতি বিনয় তামাং। তাঁর দাবি, ‘‌যে কোনও মূল্যে চা–‌শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। ১৯ শতাংশ হারে বোনাসের দাবিতে আমরা সবাই অনড়।’‌ উল্লেখ্য, মালিকপক্ষ বেঁকে বসায় চা–‌‌শ্রমিকদের সঠিক বোনাস পাইয়ে দিতে পাহাড়ের ৭টি শ্রমিক সংগঠন যৌথভাবে শুক্রবার ১২ ঘণ্টার পাহাড় বন্‌ধের ডাক দেয়। পুজো থাকায় এখন পাহাড়ে ভালই পর্যটকের আনাগোনা। কিন্তু এদিন সবাইকে ম্যালেই ঘুরে কাটাতে হয়েছে। ব্যারাকপুরের সদ্য বিবাহিত অনুপ রায় স্ত্রীকে পাহাড় দেখাতে নিয়ে এলেও কোথাও যেতে পারেননি। কলকাতার রিচার্ড দাস ৩ বন্ধুকে নিয়ে দার্জিলিং এসে ম্যালে বসে থেকে থেকে ক্লান্ত। অন্যদিকে, সোনাদা থেকে অনেক পর্যটককে ফিরে যেতে হয়েছে। চলেনি টয় ট্রেন। শ্রমিকদের স্বার্থে এই আন্দোলনে সব দল সমর্থন দিলেও বিকল্প আন্দোলনের পথের কথাই উঠে আসতে শুরু করেছে। ইস্টার্ন হিমালয়ান ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেবাশিস মৈত্র থেকে হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্টের সম্রাট সান্যালরা আলোচনার মধ্যে দিয়ে সমাধানের প্রত্যাশা করছেন। যদিও এদিন বিকেলেই বন্‌ধ উঠে গেছে এবং পর্যটকরা আবার পাহাড়মুখো হতে শুরু করেছেন, তারপরেও বিনয় তামাং শিলিগুড়ি এসে পরবর্তী আন্দোলন হিসেবে আমরণ অনশনের কথা ঘোষণা করে যান। পর্যটন ব্যবসায়ীদের আশা, আর কোনও সমস্যা থাকবে না।

শুনশান দার্জিলিং রেল স্টেশন।  ছবি:‌ সঞ্জয় বিশ্বাস‌

জনপ্রিয়

Back To Top