পার্থসারথি রায়, জলপাইগুড়ি: ‘‌নীল তিমি’‌র আতঙ্ক সবে থিতু হয়েছে। অনলাইনের জগৎ থেকে একটু একটু করে দূরেই চলে গিয়েছিল এই মারণখেলা। এরই মধ্যে নেট জগতে মৃত্যুর নতুন পরোয়ানা নিয়ে হাজির হয়েছে ‘‌মোমো’। অনলাইনে ব্যস্ত থাকা তরুণ–তরুণীদের মধ্যে রীতিমতো জাঁকিয়ে বসতে শুরু করেছে ‘‌মোমো’‌ নামে এই গেম। আর এই গেমই জীবন বিপন্ন করে তুলেছিল জলপাইগুড়ির এক কলেজছাত্রীর। যদিও অভিভাবকদের তৎপরতায় নিজেকে সামলে নিতে পেরেছেন প্রথম বর্ষের ওই কলেজছাত্রী। গোটা বিষয়টি জানার পর ‘‌মোমো’–আতঙ্ক নিয়ে অভিভাবকরাও বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।
জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা কলেজছাত্রী কবিতা রায়। মায়ের সঙ্গে পান্ডাপাড়া বটতলা এলাকায় থাকেন। সোমবার রাতে মায়ের ওপর অভিমান করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছিলেন, ‘‌মরে যেতে চাই’‌। এর পর কবিতা লক্ষ করেন, অচেনা একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে তাঁর মোবাইলে মেসেজ আসে। নিজেকে ‘‌মোমো’‌ বলে পরিচয় দিয়ে কবিতাকে তার সঙ্গে একটি গেম খেলতে বলে কেউ একজন। কবিতা জানায়, যে মোবাইল নম্বর থেকে এই মেসেজ পাঠানো হয়েছিল, সেখানে ভয়ঙ্কর একটি ছবি ব্যবহার করা করা হয়েছে। যা দেখেই গায়ের রক্ত হিম হয়ে যায়।
‘‌মোমো’‌ নামে ওই গেম প্ল্যানার কবিতাকে মরে যাওয়ার নিদান দেয় বলেও অভিযোগ। প্রথমটায় তেমন কিছু বুঝতে না পারলেও এক দাদার সঙ্গে কথা বলে কবিতা জানতে পারেন, মোমো‌ আসলে ব্লু হোয়েলের মতোই একটি অনলাইন মারণ গেম। কবিতার দাদা তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে ওই নম্বরটি ব্লক করে দিতে বলেন। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কবিতা। কবিতা জানান, মায়ের সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ার পর ঝোঁকের মাথায় মরে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এরই মধ্যে ওই মারণ গেম যে হঠাৎ করে তাঁর সঙ্গে জুড়ে বসবে, তা কখনও ভাবতে পারেননি। তাই সকলকে সতর্ক করার জন্যই কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। মারণখেলা ‘‌মোমো’‌র হাত থেকে দূরে থাকার জন্য সকলের কাছে আবেদন জানিয়েছেন কবিতা।
কবিতা জানান, তাঁর আত্মহত্যা করা বা মরে যাওযার কোনও ইচ্ছেই নেই। তবে বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছেন, ব্লু হোয়েলের মতোই একটি মারণখেলা এই মোমো। জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকার বলেন, মোমো নামে একটি অনলাইন গেম খেলার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল ওই কলেজছাত্রীকে। সাইবার সেলের মাধ্যমে গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন তাঁরা।

জনপ্রিয়

Back To Top