অর্ঘ্য দে, শিলিগুড়ি, ২৭ আগস্ট- পাহাড়ে বাঙালিদের স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠান রাজ রাজেশ্বরী কমিউনিটি হল। কার্শিয়াঙে একসময় প্রচুর বাঙালির বসবাস ছিল। তাঁদের সংস্কৃতিচর্চা এবং দূর্গাপুজোর আয়োজন করার জন্য ১৯১২ সালে বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন এই হলটি তৈরি করেছিল। পাহাড় আন্দোলন চলাকালীন গত বছর এই ভবনে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। হলের ভিতরের সেগুন কাঠের টেবিল–‌চেয়ার ভস্মীভূত হয়ে যায়। কেবলমাত্র কংক্রিটের ছাদ ছাড়া আর কিছুই আগুনের গ্রাস থেকে বাঁচানো যায়নি। দেড়শো বছরের পুরনো এই হল‌টির অন্যান্য অংশও সংস্কারের অভাবে ভেঙে পড়েছিল। সেই হল সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার কার্শিয়াঙে রাজ রাজেশ্বরী কমিউনিটি হলের সংস্কারের কাজ দেখতে যান উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ।
কার্শিয়াং স্টেশনের কাছে তৈরি হয় রাজ রাজেশ্বরী হল। এর রক্ষনাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল কার্শিয়ঙের বাঙালি অ্যাসোসিয়েশনের। এখানেই কার্শিয়াঙের শতাব্দী প্রাচীন দুর্গাপুজো হয়। নেতাজির স্মৃতি বিজড়িত রাজ রাজেশ্বরী কমিউনিটি হল। কার্শিয়ঙের কাছে গিদ্দা পাহাড়ে বসু পরিবারের বাড়ি ছিল। গিদ্দা পাহাড়ের বাড়িতে এলে এখানকার মানুষজনের সঙ্গে দেখা করতেন নেতাজি। ১৯৩৮ সালে নেতাজি ঐতিহাসিক হরিপুরা কংগ্রেসের খসড়া রচনা করেন গিদ্দা পাহাড়ের বাড়িতে বসেই। সেইসময় এখানে অনেকবারই এসেছিলেন নেতাজি। 
এখন কার্শিয়াঙে মুষ্টিমেয় কিছু বাঙালির বসবাস। সংস্কৃতিচর্চারও তেমন উদ্যোগ নেই। এমনকী দুর্গাপুজোর আয়োজন করলেও প্রবল আর্থিক সঙ্কটের মুখে পড়তে হয় বাঙালি অ্যাসোসিয়েশনকে। সংস্কারের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল এই ভবন। এরপর তৃণমূল নেত্রী শান্তা ছেত্রির দ্বারস্থ হন তাঁরা। রাজ্যসভার সাংসদ শান্তা বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরেও আনেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশমতো পূর্ত ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর রাজ রাজেশ্বরী হলের সংস্কারের কাজ শুরু করে। এদিন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এই কাজ পরিদর্শন করে বলেন, ‘পূর্ত দপ্তর প্রাথমিকভাবে ৩৮ লক্ষ টাকা দিয়ে সংস্কারের কাজ শুরু করেছে। এই হল সংস্কারের জন্য ‌আমরাও ১ কোটি টাকা দিয়েছি। এর সঙ্গে কার্শিয়াঙের ইতিহাস জড়িয়ে আছে। হলটিকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে।’‌ পাশাপাশি এদিন কার্শিয়াঙের অঞ্জুমান ইসলামি ভবনের কাজের অগ্রগতিও খতিয়ে দেখেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী। বলেন, ‘‌কার্শিয়াঙে সুবাস ঘিসিংয়ের নামে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অডিটোরিয়ামও করে দেওয়া হচ্ছে।’‌ রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ শান্তা ছেত্রির বাবার শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে যোগ দিতেই মূলত কার্শিয়াং যাওয়া মন্ত্রীর। সেই সূত্রে এই রাজ রাজেশ্বরী হলের সংস্কারের কাজও দেখে আসেন তিনি। 

রাজ রাজেশ্বরী হল পরিদর্শনে মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, সঙ্গে তৃণমূল নেতা নান্টু পাল। ছবি:‌ আজকাল
 

জনপ্রিয়

Back To Top