অলক সরকার, শিলিগুড়ি: আদ্যোপান্ত শাড়ির দোকান। বাঙালির অতি পরিচিত ‌‘‌আদি মোহিনী মোহন কাঞ্জিলাল’‌। শিলিগুড়ির সেই নামী শাড়ির দোকান শনিবার ভাসল সানাইয়ের সুরে। মুখরিত হল পুরোহিতের ‘যদিদং হৃদয়ং তব, তদিদং হৃদয়ং মম’‌ মন্ত্রোচ্চারণে। কোচবিহার জেলার এক অনামী গ্রামের অভাবী পরিবারের দুই কন্যা বাঁধা পড়লেন সাত পাকে। পেলেন নতুন ঘর। আর এই বিয়ের যাবতীয় আয়োজন করলেন আদি মোহিনী মোহন কাঞ্জিলালের কর্ণধার স্বর্ণালী কাঞ্জিলাল। বেনারসি শাড়ি পরিয়ে গয়নাগাঁটিতে পরিপাটি করে সাজিয়ে দোকানের মধ্যেই বিয়ের মণ্ডপ বানিয়ে বিয়ে দিলেন। বিয়ের পর যাতে দুই কন্যা স্বাবলম্বী হতে পারে, তার জন্য দুজনকে সেলাই মেশিনও উপহার দেওয়া হল।
এভাবে সেজেগুজে বিয়ে করতে পেরে যারপরনাই খুশি সঞ্চিতা বর্মন ও সরস্বতী বর্মন। দুজনেরই বাড়ি কোচবিহারের পেস্টাঝাড় এলাকায়। সঞ্চিতার বাবা সত্য বর্মন কৃষক। সরস্বতীর বাবা তাঁতের কাজ করেন। ধুমধাম করে বিয়ে দেওয়ার সাধ্য কারওরই ছিল না। 
‘‌চেতনা’‌ নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে স্বর্ণালী কাঞ্জিলাল জানতে পারেন এই দুই মেয়ের কথা। তাঁদের দু’‌জনকে শিলিগুড়ি নিয়ে এসে বিয়ের ব্যবস্থা করেন। সঞ্চিতার বর সৌরভ শর্মা ও সরস্বতীর বর সজল বর্মনও বেশ খুশি। স্বর্ণালী কাঞ্জিলাল বলেন, ‘‌সব মেয়ের স্বপ্ন একটি নতুন ঘর। শিলিগুড়িতে আমাদের শো–‌‌রুমের বর্ষপূর্তির আনন্দে এই দুই মেয়ের স্বপ্নপূরণ করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এর আগে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের জোর করে বিয়ে দেওয়া আটকে নতুন জীবন দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এভাবেই আমরা উত্তরবঙ্গের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করে এগিয়ে যেতে চাই।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top