পার্থসারথি রায়, জলপাইগুড়ি, ৩ জুন- প্রেমিকার অন্য জায়গায় বিয়ে ঠিক হচ্ছে। একথা জানতে পেরে নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি প্রেমিক। বেছে নিলেন অভিনব পথ। দুদিন ধরে ধর্নায় বসে প্রেমিক। প্রিয়তমার বাড়ির সামনেই ধর্নায় বসে মশারি টাঙিয়ে রাত কাটায় প্রেমিক অনন্ত বর্মন। নিজের ছবি–‌সহ প্রেমিকার সঙ্গে তোলা বেশকিছু ছবি ও বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে চলে এই ধর্না। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় রীতিমতো হইচই পড়ে যায় গোটা ধূপগুড়ি এলাকায়। প্রেমের ওই উলটপুরান দেখতে রীতিমতো মেলা বসে গেছে ধূপগুড়ি পুরসভার কলেজপাড়া এলাকায়। দিনভর সেখানে দেখা যায় কয়েক হাজার উৎসাহী মানুষের আনাগোনা। আর সেই সুযোগে অনেকেই সেখানে ফুচকা, ঝালমুড়ি ও আখের রসের দোকান নিয়ে বসে পড়ে। বিক্রিও হচ্ছে দেদার। 
এত ভিড় হওয়ার কারণ, এত দিন শুধুমাত্র প্রেমিকের কাছে প্রতারিত হয়ে প্রেমিকাদেরই ধর্নায় বসতে দেখা গিয়েছিল। প্রেমিকার বাড়ির সামনে প্রেমিকের ধর্নায় বসার নজির কোথাও নেই বললেই চলে। তাই এই ঘটনার কথা যতই ছড়িয়েছে, ততই অতি উৎসাহী মানুষের আনাগোনা বেড়েছে। ধূপগুড়ি কলেজপাড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রেমিকার সঙ্গে আলিপুরদুয়ার এলাকার এক যুবকের বিয়ে ঠিক হয়েছিল। আলিপুরদুয়ারের পাত্রের বাড়ি থেকে ধূপগুড়িতেও আসেন কয়েকজন। বিষয়টি কানে যেতেই পাত্রীর বাড়িতে তাদের ঢুকতে বাধা দেয় প্রেমিক প্রেমিক অনন্ত বর্মন। এই নিয়ে আলিপুরদুয়ারের পাত্রের পরিবার ও মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে ধূপগুড়ি থানায় অভিযোগ জানানো হয়। অনন্তর দাবি তাঁর সঙ্গে গত আট বছর ধরে সম্পর্ক রয়েছে প্রেমিকা লিপিকা বর্মনের। অথচ তাকে বাদ দিয়ে প্রেমিকাকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাই নিজের প্রেম ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে ধর্নায় বসতে বাধ্য হয়েছে সে। 
রবিবার রাতে প্রেমিকার বাড়ির সামনেই রাস্তায় মশারি টাঙিয়ে রাত কাটিয়েছে অনন্ত। সোমবার সকাল থেকেই প্রেমিক অনন্তকে দেখার জন্য দূর–‌দূরান্ত থেকে মানুষ এসে ভিড় জমায় সেখানে। প্রেমিক অনন্তর এই নাছোড় মনোভাব দেখে সোমবার সন্ধেয় এগিয়ে আসেন ধূপগুড়ি পুরসভার স্থানীয় কাউন্সিলর। সমস্যা সমাধানে আসরে নামেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও। শুরু হয় দু–‌‌পক্ষকে নিয়ে আলোচনা। শেষে সোমবার রাতের দিকে অনন্ত ও লিপিকার বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। খুশি প্রেমিক–‌প্রেমিকা দুজনেই।‌

 

অবশেষে জয় হল প্রেমের। বিয়ের পর অনন্ত ও লিপিকা। 

জনপ্রিয়

Back To Top