আজকালের প্রতিবেদন,দার্জিলিং: মিলেমিশে উন্নয়নের বার্তা দিয়ে ফের পাহাড়ের মন জয় করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বুধবার দার্জিলিং ম্যালে শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকেই পাহাড়ের জন্য ফের নানা পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন তিনি। জিটিএ এলাকার ২৮ হাজার স্কুলপড়ুয়াকে ব্যাগ ও বর্ষাতি দেওয়া, বনবস্তির বাসিন্দাদের হাতে পাট্টার নথি তুলে দেওয়া, হোম স্টে–‌‌র প্রসারে বোর্ডগুলিকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দেওয়া তার মধ্যে অন্যতম। 
২০১৭ সালের জুন মাস থেকে পাহাড়ে টানা আন্দোলনের পর দার্জিলিঙে এটাই মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম প্রকাশ্য সভা। এর আগে জুন মাসে শিল্প সম্মেলনে এলেও সেবার প্রকাশ্য সভার কর্মসূচি ছিল না। এদিন তাই পাহাড়ের প্রতি তাঁর আবেগকে তুলে ধরতে কসুর করেননি মুখ্যমন্ত্রী। জানিয়ে দেন, পাহাড় বরাবরই তাঁর হৃদয়ের কাছাকাছি। সুযোগ হলে পাহাড়ে এসেও থাকতে চান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‌তাঁর সরকার সবুজ সাথী প্রকল্পে রাজ্যে ১ কোটি ছাত্রছাত্রীকে বিনামূল্যে সাইকেল দিয়েছে। কিন্তু পাহাড়ে সাইকেল চলে না। তাই বলে পাহাড়ের পড়ুয়ারা বঞ্চিত হবে কেন?‌ সেজন্যই সরকার পাহাড়ের নবম, দশম, একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের ব্যাগ ও বর্ষাতি তুলে দেবে। এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে তার সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌পরবর্তী সফরের সময় একসঙ্গে ২৮ হাজার ছাত্রছাত্রীকে ব্যাগ ও বর্ষাতি তুলে দেওয়া হবে।’‌ পাহাড়ের বনবস্তির বাসিন্দাদের হাতে পাট্টার নথিও এদিন তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। মোট ৪৩১ জনকে এই সংক্রান্ত নথি তুলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, প্রথম দফায় যাঁরা ফরেস্ট রাইটের নথি পেলেন, তাঁরা পরবর্তীকালে জমির অধিকারও পাবেন। দুটি ধাপে আইন মেনে এই কাজ হবে। যাঁরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন, তাঁরা না জেনেই এমনটা করছেন বলে কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর। 
পাহাড়ে এলে পর্যটনের বিকাশও অন্যতম লক্ষ্য থাকে মুখ্যমন্ত্রীর। এদিন সভামঞ্চ থেকেই হোম স্টে–‌‌র বিকাশে পাহাড়ের বোর্ডগুলিকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দেন তিনি। বোর্ডগুলি পাহাড়ে গৃহনির্মাণে যে টাকা ব্যয় করে তার অর্ধেক হোম স্টে–‌‌র পরিকাঠামো নির্মাণে খরচ করবে বলে জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এতে পাহাড়ের বাসিন্দাদের কর্মসংস্থান হবে বলে জানান তিনি। পর্যটন দপ্তর থেকে হোম স্টে–‌র পরিকাঠামো নির্মাণে গাইডলাইন ঠিক করে দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পাশাপাশি দার্জিলিং শহরকে সাজিয়ে তুলতে ক্যাপিটাল হলের ঘড়িটি সংস্কার করে হলটির সৌন্দর্য বৃদ্ধি, শহরের নেহরু রোডকে পায়ে চলার জন্য বিশেষভাবে সাজিয়ে তুলতে দার্জিলিং পুরসভাকে পরামর্শ দেন তিনি। লালকুঠি সংলগ্ন এলাকাকে কীভাবে পর্যটনের বিকাশে কাজে লাগানো যায়, তাও দেখার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘‌প্রকৃতি পাহাড়ের সম্পদ। এর জন্য কারও কাছে হাত পাতার দরকার নেই। ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলতে হবে।’‌ ‌

জনপ্রিয়

Back To Top